23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানব্রাজিলের দক্ষিণ উপকূলে হোয়েলিংয়ের প্রাচীন প্রমাণ ১,৫০০ বছর আগের

ব্রাজিলের দক্ষিণ উপকূলে হোয়েলিংয়ের প্রাচীন প্রমাণ ১,৫০০ বছর আগের

একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ব্রাজিলের দক্ষিণ উপকূলে আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো প্রায় এক হাজার পাঁচশো বছর আগে হোয়েল শিকারের কার্যক্রম চালিয়েছে। গবেষণাটি জানুয়ারি ৯ তারিখে Nature Communications-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং ৫,০০০ বছর পুরনো তিমির হাড়ের হর্নপ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।

পূর্বে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন যে, সংগঠিত হোয়েলিং প্রায় ৩,৫০০ থেকে ২,৫০০ বছর আগে আর্কটিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের শীতল অঞ্চলে উদ্ভব হয়েছে, যেখানে খাদ্যের ঘাটতি মানুষকে বড় সামুদ্রিক প্রাণী শিকারের দিকে ধাবিত করেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকায় তিমির হাড় পাওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে সাধারণত সমুদ্রতটে আটকে থাকা মৃত তিমি থেকে স্বেচ্ছায় সংগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, শিকারের প্রমাণ হিসেবে নয়।

নতুন আবিষ্কারে দেখা গেছে, স্যামবাকুই নামে পরিচিত বিশাল শাঁসের গড়া টিলার মধ্যে ৫,০০০ বছর পুরনো হোয়েলবোনের হর্নপ, বিশেষভাবে তৈরি তিমির হাড়ের বস্তু এবং কাটার চিহ্নযুক্ত হাড় পাওয়া গেছে। এই চিহ্নগুলো নিয়মিত কাটা-ছাঁটা কাজের ইঙ্গিত দেয়, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটেনি।

স্যামবাকুই হল সমুদ্রের শাঁসের বিশাল স্তূপ, যা কখনো কখনো ৩০ মিটার উঁচু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই গড়া টিলাগুলো কেবল ময়লা জমার স্থান নয়, বরং সমাধি ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো, যেখানে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে হোয়েলবোনের শিল্পকর্মও সমাহিত করা হতো।

২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রত্নতত্ত্ববিদ বেবিটোঙ্গা উপসাগরের স্যামবাকুই থেকে দশ হাজারেরও বেশি বস্তু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেন। এই সংগ্রহটি বর্তমানে জয়িনভিলের স্যামবাকুই প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

সম্প্রতি এই সংগ্রহটি পুনরায় বিশ্লেষণ করার সময়, বার্সেলোনার Universitat Autònoma de Barcelona-র প্রত্নতত্ত্ববিদ আন্দ্রে কোলোনেজ এবং তার সহকর্মীরা গড়া টিলাগুলোর মধ্যে তিমির হাড়ের বিশাল পরিমাণ লক্ষ্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই গড়া টিলাগুলোতে তিমির হাড়ের পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে বেশি।”

বিশেষভাবে, সমান দৈর্ঘ্যের লম্বা কাঠি, যার শেষ অংশ তীক্ষ্ণ, হর্নপের মতো দেখা যায়। এই সরঞ্জামগুলো একই রকমের নকশা ও আকারের, যা পূর্বে কোনো স্বয়ংক্রিয় শিকারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।

হাড়ের উপর কাটা চিহ্নগুলো নিয়মিত পদ্ধতিতে করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে তিমি শিকারের পর মাংস ও চর্বি বিচ্ছিন্ন করার জন্য পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো। এই ধরনের কাটা চিহ্ন পূর্বের স্বেচ্ছাচারী সংগ্রহের চেয়ে স্পষ্টভাবে শিকারের ইঙ্গিত দেয়।

এই ফলাফলগুলো দেখায় যে, হোয়েলিংয়ের সূচনা পূর্বে ধারণা করা সময়ের চেয়ে প্রায় এক হাজার পাঁচশো বছর আগে এবং ভৌগোলিকভাবে আরও দক্ষিণে ঘটেছিল। ফলে হোয়েলিংয়ের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ হয়েছে, যা পূর্বের তিমি শিকারের সময়সীমা ও স্থানকে পুনর্গঠন করে।

অধিকন্তু, এই প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে হাম্পব্যাক তিমি পূর্বে বর্তমানের সীমার বাইরে দক্ষিণের উপকূলে বসবাস করত। আজকের সময়ে এই প্রজাতি আবার এই অঞ্চলে ফিরে আসছে, যা সম্ভবত প্রাচীন বাসস্থানের পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে।

সারসংক্ষেপে, এই গবেষণা প্রাক-কলম্বিয়ান সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের পদ্ধতি ও স্থানীয় অর্থনীতির জটিলতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ভবিষ্যতে সমুদ্রতটের আরও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান অনুসন্ধান করে এই বিষয়ের গভীরতা বাড়ানো জরুরি।

আপনার মতামত কী? সমুদ্রতটের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments