শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি দল বুধবার ১৬ জনের স্কোয়াড প্রকাশ করে, যেখানে দীর্ঘ সময়ের পর ডানহাতি পেসার প্রামোদ মাদুশান এবং এক-দিনের সেঞ্চুরি স্কোরকারী পাভান রাত্নায়েককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দু’জনই ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত শেষ ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি পর্যায়ে ফিরে আসছেন। এই নির্বাচনটি শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী শেষ সিরিজের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রামোদের ফিরে আসা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দীর্ঘ সময়ের পর আবার জাতীয় দলের জার্সি পরবেন। তার শেষ টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স ২০২৩ সালের এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, যেখানে তিনি ১২ উইকেটের সঙ্গে আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা যোগ করেন। প্রায় তিন বছর পর শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দলে তার উপস্থিতি কোচিং স্টাফের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলাফল।
পাভান রাত্নায়েকের ফিরে আসা একই সময়ে ঘোষণা করা হয়। তিনি গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ১২১ রান করে সেঞ্চুরি অর্জন করেছিলেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে মাত্র আট রান করার পরের সবচেয়ে বড় স্কোর। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার সামগ্রিক রেকর্ডে এখন পর্যন্ত তিনটি ইনিংসে মাত্র ৮ রান রয়েছে, তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার একক পারফরম্যান্স তাকে পুনরায় নির্বাচিত করতে সহায়তা করেছে।
শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি দলে চারজন খেলোয়াড় বাদ পড়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম কামিন্দু মেন্ডিস। যদিও কামিন্দু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি এই সিরিজের স্কোয়াডে নেই এবং অন্য আটজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার অংশগ্রহণও অনিশ্চিত।
শ্রীলঙ্কা এখনো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ১৫ জনের দল ঘোষণা করেনি; শেষ সময়সীমা আগামী শনিবার নির্ধারিত। দলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপের আগে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুক্রবার শুরু হবে, এবং শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ডের বাকি দুই টি-টোয়েন্টি রোববার ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
সিরিজের পর শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে, যেখানে প্রথম ম্যাচটি কলম্বোতে ৮ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হবে। এই ম্যাচটি দুই স্বাগতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্বকাপের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে দাসুন শানাকা অধিনায়ক হিসেবে, পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা, কুসাল মেন্ডিস, কুসাল পেরেরা, ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা, চারিথ আসালাঙ্কা, জানিথ লিয়ানাগে, পাভান রাত্নায়েক, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েলালাগে, মাহিশ থিকশানা, দুশমান্থা চামিরা, প্রামোদ মাদুশান, মাথিশা পাথিরানা এবং ইশান মালিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত।
দাসুন শানাকা অধিনায়কের নেতৃত্বে দলটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশেষত পাভান রাত্নায়েকের সেঞ্চুরি এবং প্রামোদ মাদুশানের বোলিং বিকল্পের ওপর নির্ভর করে। কোচিং স্টাফের মতে, প্রামোদের বোলিং গতি এবং ভ্যারিয়েশন শ্রীলঙ্কার মিডল ওভারকে স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ হবে, আর পাভানের ব্যাটিং ক্ষমতা শেষ ওয়ানডেতে প্রমাণিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশ্য বিবৃতি অনুযায়ী, সিরিজের পারফরম্যান্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ টেস্ট হিসেবে কাজ করবে এবং খেলোয়াড়দের ফর্ম ও ফিটনেস যাচাইয়ের প্রধান মঞ্চ হবে। দলটি এই সিরিজে শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলে বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ জনের দলে তাদের স্থান নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
সারসংক্ষেপে, শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি দলটি প্রামোদ মাদুশান ও পাভান রাত্নায়েকের ফিরে আসার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক শক্তি পুনরুদ্ধার করেছে, একই সঙ্গে কিছু মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সিরিজের ফলাফল শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও কৌশলগত দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



