শ্রীলঙ্কার একটি আদালত বুধবার ডাম্বুলা থান্ডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক তামিম রহমানকে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে, তবে শাস্তি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সময়ে তাকে দুই কোটি চল্লিশ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
তামিম রহমান ব্রিটিশ নাগরিক, যার বংশধর বাংলাদেশি, এবং তিনি ২০২৪ সালের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) শুরুর আগে, মে মাসে শ্রীলঙ্কা ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারির পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ ডাম্বুলা থান্ডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বাতিল করে দেয়।
২০১৯ সালের ক্রীড়া অপরাধ প্রতিরোধ আইনের অধীনে তামিমের বিরুদ্ধে অক্টোবর ২০২৫-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের এলপিএলে অংশগ্রহণকারী একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তনে জড়াতে চাপ দিয়েছিলেন।
ডিসেম্বরে তামিমের আইনজীবী কলম্বো হাইকোর্টকে জানায় যে, মামলাটি দ্রুত সমাধানের জন্য তামিম দোষ স্বীকার করতে ইচ্ছুক। এই স্বীকারোক্তি শাস্তি হ্রাসের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অনুমান করা যায়।
তামিমের সঙ্গে সমন্বয় করার অভিযোগে পাকিস্তানি নাগরিক মুজিব উর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, মুজিব উর রহমান ফিক্সিং পরিকল্পনায় সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলেন।
এলপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের একই টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার সাচিত্রা সেনানায়েকের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেনানায়েক তখনও নিজের নির্দোষতা দাবি করছিলেন।
সেই সময় থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সংস্থা ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সংকল্প প্রকাশ করেছে। তামিমের শাস্তি এই নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডাম্বুলা থান্ডার্সের বাতিল হওয়ায় টুর্নামেন্টের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড নতুন সিজনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তালিকা পুনর্বিবেচনা করেছে এবং ফিক্সিং সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
তামিমের শাস্তি এবং জরিমানা শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া আইনের প্রয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদেশি নাগরিক হলেও শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ কার্যকলাপের জন্য আইনি শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না।
ফিক্সিং মামলায় যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। শ্রীলঙ্কা পুলিশ ও ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ একসাথে কাজ করে ফিক্সিং নেটওয়ার্কের মূল কাঠামো উন্মোচন করার চেষ্টা করছে।
এই মামলার পরিণতি এলপিএলের আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া আইনের অধীনে ফিক্সিংয়ের জন্য নির্ধারিত শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং বড় জরিমানা, যা তামিমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এলপিএল আগামী মৌসুমে আবার শুরু হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ফিক্সিং সংক্রান্ত মামলাগুলোর ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট শাস্তি টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রীড়া সংস্থা সকল স্টেকহোল্ডারকে আহ্বান জানিয়েছে যে, ফিক্সিংয়ের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে। এই নির্দেশনা ভবিষ্যতে ক্রীড়া জগতে ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



