ম্যানচেস্টার সিটি এবং ফুলহ্যাম দুই ক্লাবের মধ্যে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ওসকার ববকে ফুলহ্যামের কাছে বিক্রি করা হবে। চুক্তির অংশ হিসেবে বিক্রয়ের পর ২০ শতাংশ রিসেল ফি এবং ম্যানচেস্টার সিটির জন্য ম্যাচিং রাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই শর্তের ভিত্তিতে ম্যানচেস্টার সিটি পূর্বে বার্নলি থেকে জেমস ট্রাফোর্ডকে ফিরে আনে, তবে এই চুক্তি ববের জন্যই মূল বিষয়।
ববের ম্যানচেস্টার সিটিতে উপস্থিতি সীমিত ছিল; তিনি প্রথমবার ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৫-১ বিজয়ী ম্যাচে ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৮৯তম মিনিটে প্রতিস্থাপিত হয়ে মাঠে নামেন। তবে পরের মৌসুমের শুরুর আগে প্রশিক্ষণে পা ভাঙার আঘাত পেয়ে ২ এপ্রিল পর্যন্ত খেলতে পারেননি। পুনরুদ্ধারের পর হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে তিনি মাত্র দুইটি ম্যাচে অংশ নিতে সক্ষম হন। এই মৌসুমে মোট ১৫ বার মাঠে নামলেও তার মধ্যে নয়টি স্টার্ট ছিল।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট হ্যাম লন্ডনের মিডফিল্ডার লুকাস প্যাকেটারকে ফ্লামেঙ্গোর কাছে ৪২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় £৩৬.৭ মিলিয়ন) মূল্যে বিক্রি করেছে। প্যাকেটা ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় দুই ক্লাবের আলোচনায় চূড়ান্ত সমঝোতা হয়, যেখানে ফ্লামেঙ্গো তিনটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে।
ওয়েস্ট হ্যাম বর্তমানে অবনতি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রথমে প্যাকেটাকে রাখতে চেয়েছিল। ক্লাবটি প্রাথমিকভাবে বলেছিল যে তিনি শুধুমাত্র ফ্লামেঙ্গো তাকে ঋণাত্মকভাবে সিজনের বাকি সময়ের জন্য ফেরত পাঠালে বিক্রি হবে। তবে প্যাকেটা ইংরেজি জীবনের মানসিক চাপ এবং অতীতের স্পট-ফিক্সিং অভিযোগের ফলে দ্রুত ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রায় তিন বছর আগে প্যাকেটা স্পট-ফিক্সিং অভিযোগের মুখে পড়ে, যা তাকে আজীবন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ফেলেছিল এবং ম্যানচেস্টার সিটিতে স্থানান্তর থেকে বাধা দেয়। তবে গত গ্রীষ্মে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তার দোষমুক্তি নিশ্চিত করে। ওয়েস্ট হ্যাম তার তদন্তের সময় প্যাকেটার পাশে দাঁড়িয়েছিল, তবে তিনি যখন এই মাসে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন, তখন ক্লাবটি তার ইচ্ছা মেনে নেয়।
ওয়েস্ট হ্যাম এছাড়াও ফুলহ্যাম থেকে অর্জিত ট্রায়োরে ওয়েড-প্রোয়েসকে বার্নলিতে ঋণাত্মকভাবে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এই লেনদেনটি ক্লাবের স্কোয়াডে সাময়িক পরিবর্তন আনবে এবং বার্নলির মাঝামাঝি মৌসুমে শক্তি যোগাবে।
ববের নতুন গন্তব্য ফুলহ্যাম, যেখানে তিনি শীঘ্রই দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে যুক্ত হবেন। ক্লাবটি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে তার উইং-ফরোয়ার্ড পজিশনে গভীরতা বাড়াতে চায়, বিশেষত পিপ গুআরডিয়োর অধীনে দলের কৌশলগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
প্যাকেটার ফ্লামেঙ্গোতে যোগদানের ফলে ব্রাজিলীয় ক্লাবের মিডফিল্ডে অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লামেঙ্গো ইতিমধ্যে তার স্বাক্ষরের পরবর্তী ম্যাচে রিও ডি জেনেইরোর মুখোমুখি হবে, যেখানে প্যাকেটা তৎক্ষণাৎ তার প্রভাব দেখাতে পারবেন।
উল্লেখযোগ্য যে, উভয় ক্লাবের এই লেনদেনগুলো তাদের আর্থিক পরিকল্পনা ও দলীয় গঠনকে প্রভাবিত করবে। ম্যানচেস্টার সিটি ববের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ ভবিষ্যৎ ট্রান্সফার বা বেতন কাঠামোতে ব্যবহার করতে পারে, আর ওয়েস্ট হ্যাম প্যাকেটা বিক্রয়ের মাধ্যমে অবনতি ঝুঁকি কমাতে এবং নতুন খেলোয়াড়ের সন্ধান করতে পারবে।
আগামী সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, আর ফুলহ্যাম ববের যোগদানের পর তার আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলো পরীক্ষা করবে। ওয়েস্ট হ্যাম এবং ফ্লামেঙ্গো উভয়ই নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে, যেখানে প্যাকেটা এবং ববের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে।



