23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকউক্রেনের যাত্রী ট্রেনে রাশিয়ান ড্রোন আক্রমণ, পাঁচজনের মৃত্যু

উক্রেনের যাত্রী ট্রেনে রাশিয়ান ড্রোন আক্রমণ, পাঁচজনের মৃত্যু

উত্তর‑পূর্ব ইউক্রেনের এক যাত্রী ট্রেনে রাশিয়ান ড্রোন আক্রমণ ঘটায় পাঁচজনের মৃত্যু এবং বহু আহত। ট্রেনটি চোপ সীমান্ত থেকে বারভিনকোবে পর্যন্ত চলছিল, যা পূর্বের লাইন থেকে শেষ স্টেশন এবং সামনের লাইন পর্যন্ত সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রুট। আক্রমণের সময় গাড়ি ২৯১ যাত্রী বহন করছিল, এবং ইউক্রেনের ৯৩তম ব্রিগেডের সৈনিক ওমর কলসিগনাম (কল‑সিগনাম) এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।

ড্রোনের প্রথম আঘাত ট্রেনের কাছে অবতরণ করে গতি থামিয়ে দেয়, ফলে গাড়ি থেমে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আরেকটি ড্রোনের শব্দ শোনা যায় এবং তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে গাড়ির অংশগুলো ধ্বংস হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ওমর, যিনি ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার, সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন যে ট্রেনটি পুনরায় লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং সকল যাত্রীকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

সেই মুহূর্তে গাড়ির একটি অংশ আগুনে জ্বলে ওঠে, এবং অগ্নিকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওমর ও কয়েকজন যাত্রী নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর, তিনি আবার ট্রেনে ফিরে গিয়ে বাকি যাত্রীদের অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। গাড়ির ভেতরে একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়, এবং বাকি যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আক্রমণে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি যাত্রীরা শোক ও আতঙ্কে চিৎকার করে, কিছুজন কাঁদতে থাকে, আর কিছুজন দৌড়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষগুলো ধোঁয়ায় ঢাকা গাড়ি থেকে দূরে সরে যাওয়ার সময় চিৎকার ও কান্না করে।

এই আক্রমণটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে চলমান সামরিক সংঘর্ষের নতুন এক উদাহরণ, যেখানে রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করে পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, রেলপথের ওপর আক্রমণ বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা হুমকির নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং যুদ্ধের মানবিক খরচ বাড়িয়ে তুলেছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “ড্রোনের মাধ্যমে রেলপথে আক্রমণ করা রাশিয়ার কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা বেসামরিক পরিবহনকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে যুদ্ধের চাপ বাড়াচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গৃহযুদ্ধের সময় বেসামরিকদের সুরক্ষার নীতি লঙ্ঘন করতে পারে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আক্রমণের পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে রেলপথের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো দেশগুলো এই ঘটনার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা উক্রেনের বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে রেলপথে ড্রোন আক্রমণ রোধে কী ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments