মঙ্গলবার রাতের Jimmy Kimmel Live! অনুষ্ঠানে হোস্ট জিমি কিমেল আমাজনের নতুন ডকুমেন্টারি ‘মেলানিয়া’‑কে তীব্র সমালোচনা করেন। ডকুমেন্টারিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গিনী মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনের অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে এবং ২০২৫ সালের শপথগ্রহণের আগে হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখায়। এই চলচ্চিত্রটি ব্রেট রাটনার পরিচালিত এবং আমাজন MGM স্টুডিওসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ১,৫০০ টিরও বেশি থিয়েটারে এই সপ্তাহান্তে প্রদর্শিত হবে।
কিমেল মঞ্চে উল্লেখ করেন যে, মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্য এই চলচ্চিত্রটি $৭৫ মিলিয়ন মূল্যের একটি ‘ঘুষ’ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন যে, মিনিয়াপোলিসে ঘটিত হত্যাকাণ্ডের খবরের ছায়ায় এই চলচ্চিত্রের মুক্তি কম আলো পেয়েছে। একই দিনে হোয়াইট হাউসে চলচ্চিত্রের একটি ভিআইপি স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হয়, যখন আইসিই (ICE) কর্মী অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হন। কিমেল এই ঘটনাকে উল্লেখ করে মেলানিয়ার প্রচারমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে তুলনা করেন।
অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজে মেলানিয়া ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের ক্লিপ দেখানো হয়, যেখানে তাকে দেশের জন্য একতা আহ্বান করতে বলা হয়। তিনি সংক্ষেপে “আমাদের একতা দরকার” বলে উত্তর দেন এবং “আমি একতার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি” যোগ করেন। কিমেল এই বক্তব্যকে হালকা স্বরে উপহাস করে বলেন, মেলানিয়া হয়তো চা অর্ডার করছেন নাকি একতা বলছেন, তা স্পষ্ট নয়।
কিমেল আরও উল্লেখ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চলচ্চিত্রটি “মাস্ট ওয়াচ” হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি রসিকতা করে বলেন, সম্ভবত ট্রাম্প প্রথম আট মিনিট দেখেই পপকর্নের বাটিতে ঘুমিয়ে গেছেন। তিনি যোগ করেন, মেলানিয়ার পুত্র ও স্বামী চলচ্চিত্রটি পছন্দ করেছেন এবং ছবিতে অংশগ্রহণকারী সবাই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যা তার জন্য যথেষ্ট।
‘মেলানিয়া’ চলচ্চিত্রটি শুক্রবার থেকে থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। সামাজিক মাধ্যমে কিছু থিয়েটারের খালি আসনের স্ক্রিনশট দেখা যায়, তবে ট্র্যাকিং সেবা NRG অনুমান করে যে প্রারম্ভিক বক্স অফিস রেভিনিউ $৫ মিলিয়ন হতে পারে, যা ডকুমেন্টারির জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য। অন্যদিকে, থিয়েটার মালিকদের মধ্যে এই আয় অনুমানের প্রতি সন্দেহ রয়েছে।
প্রকাশের জন্য আমাজন MGM প্রায় $৪০ মিলিয়ন লাইসেন্স ফি প্রদান করেছে বলে জানা যায়। চলচ্চিত্রের বাজেট ও বিতরণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই বিনিয়োগের পরিমাণ শিল্পের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কিমেল তার মোনোলগে উল্লেখযোগ্যভাবে হালকা স্বরে মেলানিয়া ট্রাম্পের চলচ্চিত্রকে সমালোচনা করে, যা বিনোদন ও রাজনীতি সংযোগের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মন্তব্যের পর দর্শক ও মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া মিশ্র, কেউ তাকে হাস্যরসের জন্য প্রশংসা করে, আবার কেউ রাজনৈতিক মন্তব্যের অতিরিক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ডকুমেন্টারির মুক্তি এবং কিমেলের সমালোচনামূলক মন্তব্য দুটোই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বিনোদন মাধ্যমের ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক বিতর্ক চলছে।



