28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআলী রীয়াজের মতে তরুণই হবে আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি

আলী রীয়াজের মতে তরুণই হবে আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শেষ সপ্তাহে ঢাকা শহরের এফডিসি মিলনায়তে একটি ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তুলবে এবং এই প্রক্রিয়াই জুলাই মাসে ঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণকে ব্যাখ্যা করে।

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ‘আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে তরুণরাই নিয়ামক শক্তি’ শিরোনামে আয়োজন করা বিতর্কে রীয়াজের বক্তব্যের মূল থিম ছিল যুব শক্তির রাজনৈতিক প্রভাব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা না থাকলে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা কঠিন হবে। তার মতে, গণভোটের মাধ্যমে অথবা সরাসরি সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যুবকরা দেশের নীতি‑নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিতর্কের আয়োজনকারী ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ সংস্থা, যার সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরী, কিরণ নামের মডারেটরকে কেন্দ্র করে ইভেন্টটি পরিচালনা করেন। প্রতিযোগিতায় তেজগাঁও কলেজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) দলগুলো মুখোমুখি হয়। শেষ পর্যন্ত তেজগাঁও কলেজের দল বিজয়ী ঘোষিত হয়, যা যুবকদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার উত্সাহকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

রীয়াজের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মন্তব্যও প্রকাশ পায়। তেজগাঁও কলেজের একজন প্রতিনিধির মতে, তরুণদের ভোটদানের অধিকার এবং দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশের শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে, বি.ই.উ.টি’র একজন সদস্য উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক আলোচনায় তরুণদের যুক্ত করা শুধু ভোটের সংখ্যা বাড়াবে না, বরং নীতি‑নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণও যোগ করবে।

এই ইভেন্টের পটভূমিতে চলমান রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনও রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব স্বীকার করেছে, তবে তাদের প্রত্যাশা ভিন্ন। সরকার তরুণদের সমর্থনকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে দেখছে, যেখানে বিরোধী দল তরুণদের অধিকার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। যদিও এই দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি রীয়াজের মন্তব্যে উল্লেখ না করা হলেও, ইভেন্টের আয়োজন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে উভয় দিকের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আলী রীয়াজের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ নীতি‑নির্ধারণে যুব শক্তি অপরিহার্য, এবং এর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিভিল সোসাইটি ও মিডিয়া একসঙ্গে কাজ করা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের ভোটের অধিকার সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হলে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক জ্ঞান বৃদ্ধি পেতে হবে।

‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ সংস্থার সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরীর মন্তব্যে দেখা যায়, এই ধরনের বিতর্কের মাধ্যমে যুবকদের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে। তিনি যোগ করেন, তরুণদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও যুক্তি‑বিতর্কের দক্ষতা গড়ে তোলা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য।

ইভেন্টের সমাপ্তি শেষে রীয়াজ আবারও জোর দেন, আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পরিবর্তন করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের শিক্ষামূলক ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং যুবকরা দেশের শাসনব্যবস্থায় বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

এই বিতর্কের মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, ভোটদানের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের হার বাড়বে বলে আশা করা যায়। শেষ পর্যন্ত, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার মূল চাবিকাঠি হবে, এটাই রীয়াজের মূল বার্তা।

৭১/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastreamবিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments