ঢাকা-১৫ (কাফরুল‑মিরপুর) এলাকায় মনিপুর হাই স্কুল ও কলেজের প্রাঙ্গণে আজ (২৮ জানুয়ারি) নারী সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর ডা. শফিকুর রহমান পার্টির নারীদের প্রতি নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি নারী বিরোধী কোনো কাজের প্রতি নীরব থাকবে না এবং মাতৃসন্মানের রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
শফিকুরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নারীদের ওপর আক্রমণ বা হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটলে তা সহ্য করা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাতৃসন্মান পার্টির জন্য নিজের জীবন থেকেও বেশি মূল্যবান এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। এছাড়া তিনি সকলকে আহ্বান জানান, অন্যকে সম্মান করা এবং নারীর মর্যাদা রক্ষা করা উচিত, নতুবা ফলের জন্য নিজেই দায়িত্ব নিতে হবে।
সমাবেশে শফিকুর উল্লেখ করেন, পার্টি আল্লাহর সামনে নত হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে নারীর নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশের উন্নতি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি কর্মস্থলে নারীর জন্য আলাদা বাস সেবা চালু করার পরিকল্পনা ও প্রধান শহরগুলোতে পিক আওয়ারে বিশেষ বাস ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিবাদী দলের নারীদের ওপর আক্রমণ নিয়ে জামায়াত-এ-ইসলামির নায়েব-এ-আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের পূর্ববর্তী মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তাহের মঙ্গলবার একটি প্রেসকনফারেন্সে নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে হিংসা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে জানিয়েছিলেন এবং ৩১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের একটি নারী সমাবেশের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
শফিকুরের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো ধরনের মাতৃত্ববাদ বা পিতৃত্ববাদকে সমর্থন করে না; তারা সমতা ও মানবিক সমাজ গড়তে চায়। ধর্ম বা জাতি ভিত্তিক বিভাজন ও কষ্টের বিরোধিতা করে তিনি পার্টির নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া শফিকুর ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত রেফারেন্ডামের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রথমে রেফারেন্ডে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং পরবর্তীতে ন্যায় ও সমতার জন্য ভোট দেওয়া হবে। এই রেফারেন্ডের ফলাফল পার্টির রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
জামায়াত-এ-ইসলামির নারী শাখার সচিব নুরুন্নিসা সিদ্দিকা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রতিপক্ষকে নারীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ বন্ধ না হলে পার্টি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারীদের সম্মুখীন সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ভোটারদের কাছে নিরাপদ ও সমান সমাজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। রেফারেন্ডের ফলাফল ও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



