ভোলা জেলার চারফেসন পৌরসভার ওয়ার্ড-৬-এ আজ সকাল প্রায় ৯ টায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা-৪ নির্বাচনী প্রার্থীর সমর্থনে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছিলেনা নারী কর্মীরা, যাদের ওপর জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর সমর্থকরা আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ অন্তত তিনজন নারী কর্মীর শারীরিক আঘাতের কথা জানিয়ে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে।
চারফেসন উপজেলা প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা-৪ প্রার্থীর কন্যা মারিয়া কামাল ঘটনাটি বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি, তার দুই ভাই ফয়সাল আহমেদ ও তাহজিব, এবং সাত-আটজন নারী কর্মী ক্যাম্পেইন চালাচ্ছিলেন, যখন জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর সমর্থক মোস্তফা কামাল ও তার সহকর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন প্রথমে ক্যাম্পেইন থামাতে চেষ্টা করেন। বিরোধের পর সমর্থকরা সরাসরি হামলা চালিয়ে নারী কর্মীদের আঘাত করেন।
মারিয়া কামাল উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকরা তাদেরকে এলাকাটি ত্যাগ করতে হুমকি দিয়ে, ক্যাম্পেইন বন্ধ করার দাবি জানায়। হুমকি সত্ত্বেও দলটি কাজ চালিয়ে গিয়ে, শেষ পর্যন্ত শারীরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়। আঘাতপ্রাপ্ত নারীদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চারফেসন হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়।
অধিকাংশ আঘাতপ্রাপ্তের অবস্থা গম্ভীর নয়, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসক, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করা সহকারী কমিশনার এমাদুল হোসেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন যে উভয় দলই বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করার কথা জানিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
উপজেলা নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. লোকমান হোসেনও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অভিযোগটি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে লিখিত ফর্মে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগের অনুরোধের পরেও এখনো কোনো পত্র পাওয়া যায়নি।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি দলের কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসনের মতে, উভয় দলই বিষয়টি সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে লিখিত অভিযোগের অনুপস্থিতি ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি গড়ে তুলতে বাধা হতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসাররা উভয় দলের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগের প্রত্যাশা করছেন, যাতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু করা যায়। এছাড়া, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশি তদারকি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চেয়েছে। জামায়াত-এ-ইসলামি দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না থাকলেও, উভয় দলই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট হওয়ার দাবি জানাচ্ছে।



