চট্টগ্রাম বিভাগের রাওজান আপাততলে জয়নগর গ্রাম, কাদলপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড ৭-এ সন্ধ্যাবেলায় ৩ বছর বয়সী এক শিশুর টিউব‑ওয়েল পিটে পতনের ফলে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাম মিসবাহ উদ্দিন, পিতা সাইফুল ইসলাম, যিনি দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। শিশুটি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে বাড়ির কাছাকাছি খেলতে গিয়ে পিটের মধ্যে পড়ে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।
পিটটি প্রায় ২৫-৩০ ফুট গভীর এবং কয়েক বছর আগে সরকারী কোনো প্রকল্পের জন্য খনন করা হয়েছিল, তবে পরে তা পূর্ণ না করে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাম্বু দণ্ড ব্যবহার করে শিশুটিকে তোলার চেষ্টা করে, ভিডিওতে দেখা যায় এক তরুণ বাম্বু দণ্ডে শিশুটিকে ধরতে বলছে। শিশুর চাচা শাহ আলমের মতে, মিসবাহ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাম্বু দণ্ডে চেপে ধরে ছিল।
পিটে পতনের পর স্থানীয় পুলিশ ও অগ্নি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাওজান থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. সাযেদুল ইসলাম জানান, পাঁচটি অগ্নি সেবা ইউনিট এবং পুলিশ দল সন্ধ্যায় ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সময়ে সামরিক বাহিনীর একটি দলও উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। অগ্নি সেবা সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান উল্লেখ করেন, পিটের পার্শ্বে আরেকটি পিট খনন করে শিশুটিকে তাড়াতাড়ি বের করার চেষ্টা করা হয়।
শিশুটিকে সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে রাওজান আপাততল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ডিউটি ডাক্তারেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তারেরা জানান, শিশুটি হাসপাতালে ‘ব্রিংডেড ডেড’ অবস্থায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ ইতিমধ্যে মৃত অবস্থায়ই তাকে নিয়ে আসা হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পিটের নিরাপত্তা ও পুনরায় পূরণ না করার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেয়। রেঙুনিয়া সি.রিংয়ের সহকারী সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (ASP) বললেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের নথি ও পিটের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বে ১০ ডিসেম্বর ২০২২-এ রাজশাহী জেলার তানোরে উপজেলায় ২ বছর বয়সী সাজিদ নামের শিশুও অনাবৃত ৩০ ফুট গভীর টিউব‑ওয়েল পিটে পড়ে গিয়েছিল এবং ৩২ ঘন্টা পর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই দুইটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় জনগণের মধ্যে পিটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
অধিক তদন্তে পিটের মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন এবং পুনরায় পূরণ না করার কারণ স্পষ্ট করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে অনাবৃত পিটের পুনরায় সিলিং বা নিরাপদে বন্ধ করার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে। ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।



