শ্রীলঙ্কার কোলম্বো হাই কোর্ট বুধবার ডাম্বুলা থান্ডার্সের মালিক তামিম রহমানকে ম্যাচ‑ফিক্সিং অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের জেল শাস্তি প্রদান করেছে, তবে শাস্তি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তামিম রহমান, যিনি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, টি২০ ফরম্যাটের দেশীয় লিগে একটি খেলোয়াড়কে প্রভাবিত করা এবং জুয়া বাজির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন বলে স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তির পর আদালত তাকে দোষী ঘোষণা করে উপরে উল্লেখিত শর্তে শাস্তি আরোপ করেছে।
শাস্তির পাশাপাশি আদালত মালিককে ২৪ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কা রুপি (প্রায় ৮০,০০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা আরোপ করেছে। এই আর্থিক শাস্তি মামলার গুরুতরতা এবং ক্রীড়া জগতের স্বচ্ছতা রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ আদালতের রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা তামিমের সম্পদে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
দেওয়া শাস্তি ২০১৯ সালে গৃহীত কঠোর ক্রীড়া দুর্নীতি বিরোধী আইনের অধীনে কার্যকর করা হয়েছে। ঐ আইনটি শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জুয়া সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তামিমের মামলায় এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো স্তরের ক্রীড়া কর্মকর্তার ওপরও আইন সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
তামিমের গ্রেফতার ২০২৪ সালে ঘটেছিল, যখন একটি খেলোয়াড় সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনে। এটি লিগের প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রিমিয়ার লিগের কর্মকর্তার ওপর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গ্রেফতারের সময় তামিমকে কোলম্বোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ে, যখন তিনি দুবাইয়ের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
বন্দুকধারী কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে আটক করে এবং কয়েক সপ্তাহের জন্য জেলখানায় রাখে। পরবর্তীতে তিনি জামিনের শর্তে মুক্তি পান, তবে মামলাটি এখনও চলমান এবং তার ওপর আরেকটি ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।
দলটির ম্যানেজার মুজিব উর রেহমান, যিনি পাকিস্তানীয় নাগরিক, তাও একই মামলায় জড়িত বলে অভিযোগে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। মুজিবের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রভাবিতকরণ এবং জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, যা আদালতের তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কার টি২০ লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের কঠোর পদক্ষেপ ক্রীড়া জগতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্কতা জাগিয়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়তা করবে।
ডাম্বুলা থান্ডার্সের মালিকানা নিয়ে এই আইনি প্রক্রিয়া লিগের পরিচালনা কাঠামোতে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে, তবে লিগের শাসন সংস্থা ইতিমধ্যে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে লিগের প্রতিযোগিতা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলো কীভাবে এই ঘটনার পরিণতি মোকাবেলা করবে, তা সময়ই বলবে।



