বাংলাদেশ সরকার প্রথমার্ধে (জুলাই‑ডিসেম্বর) বিদেশি ঋণ গ্রহণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখেছে; অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মোট ঋণ প্রবাহে ২৯ শতাংশের পতন ঘটেছে এবং এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অধীনে বিদেশি তহবিলের প্রকল্প বাস্তবায়ন পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
এই সময়কালে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং রাশিয়া, চীন, জাপান, ভারতসহ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা থেকে মোট ২.৪৯ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরিমাণে অন্যান্য আর্থিক সংস্থার অবদানও অন্তর্ভুক্ত।
ERD প্রকাশিত তথ্য অনুসারে একই সময়ে পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের তুলনায় তহবিল মুক্তি ২৯ শতাংশ কমে গেছে, যা বিদেশি ঋণ প্রবাহের তীব্র হ্রাস নির্দেশ করে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) জানায় যে, এডিপি অধীনে বিদেশি তহবিলের প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ১৮.৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে এই হার ১৯.৬১ শতাংশ ছিল।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিদেশি ঋণ-সংযুক্ত প্রকল্পের ব্যয়েও তীব্র হ্রাস দেখা গেছে, যা সামগ্রিক বিনিয়োগের গতি ধীর করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই মাসের শুরুর দিকে নীতি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD) দেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের অবস্থা বিবেচনা করে সব বিদেশি তহবিলের এডিপি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে।
ERD আরও উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতারা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকায় নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি কমে গেছে; দেশের জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় ঋণদাতাদের সতর্কতা বাড়ছে।
ইয়েভি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জুলাই‑ডিসেম্বর সময়কালে ঋণ প্রতিশ্রুতি ১৩ শতাংশ কমে $১.৯৯ বিলিয়ন হয়েছে, যার মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এককভাবে $১.২৬ বিলিয়ন প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অবদান ও মুক্তি হ্রাসের পরেও ঋণ সেবা পরিশোধের চাপ বাড়ছে; একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ঋণ পরিষেবার জন্য পূর্ববছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ $২১.৯ বিলিয়ন ব্যয় করেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, বিদেশি ঋণ প্রবাহের ধারাবাহিক হ্রাস এবং ঋণ সেবা ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এডিপি প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন ও নতুন ঋণদাতার স্বস্তি অর্জন না হলে ভবিষ্যতে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।



