28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও তিন সন্তানের ওপর জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের হামলা

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও তিন সন্তানের ওপর জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের হামলা

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন‑মনপুরা) আসনে নির্বাচনী প্রচারকালে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এ কে এম কামাল উদ্দিনের পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা ঘটেছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৯:৩০ের মধ্যে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে ইসলামি আন্দোলনের দাওয়াতি কার্যক্রম চলাকালীন মারিয়া কামাল নেতৃত্বে পাঁচ‑সাতজন নারী স্বেচ্ছাসেবক ভোটারদের কাছে প্রচারমূলক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছিলেন। একই সময়ে প্রার্থীর ছেলে মুহাম্মাদ তাহজিব এবং জেলা যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদও উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী আন্দোলনের দাবি অনুসারে, জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর সমর্থক মো. সোহেল হাওলাদার ও আলাউদ্দিন প্রচারণা চলা দলকে বাধা দিয়ে মৌখিক আক্রমণ শুরু করেন। এরপর তারা মুহাম্মাদ তাহজিব ও ফয়সাল আহমাদকে ধাক্কা দিয়ে গড়িয়ে পড়ে। মারিয়া কামালকেও একইভাবে ধাক্কা দেওয়া হয়।

হামলার পরপরই স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে সমঝোতার চেষ্টা করেন, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি দলের সদস্যরা অতিরিক্ত কর্মী ও সমর্থক ডেকে পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করেন। ফলে তিনজন আহত হন, যার মধ্যে মারিয়া কামালও অন্তর্ভুক্ত। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘটনাস্থলে দুইটার দিকে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে জড়িত সকলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি তোলা হয়। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেনের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে ফোনে জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন এবং ইসলামি আন্দোলন থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি যোগ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি উপজেলা আমিরকে ডেকে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষের মন্তব্যে বলা হয়েছে, প্রচারণা চলাকালীন কিছু অনধিকারী ব্যক্তি বিরক্তি প্রকাশ করে অশান্তি সৃষ্টি করেছে, তবে তারা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে ইচ্ছুক। তবে সংশ্লিষ্ট দলের প্রতিনিধিরা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেননি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সংঘর্ষ নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং উভয় দলের ভোটার ভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভোলা-৪ আসনে দুই দলের সমর্থক সংখ্যা সমান হওয়ায় কোনো ছোটখাটো ঘটনা বড় রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

প্রতিবাদী দলগুলো এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছে। যদি গ্রেপ্তার না হয়, তবে উভয় দলের মধ্যে আরও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে, ঘটনার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে। তারা এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণও দাবি করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের স্থানীয় সংগঠন বলছে, তারা নির্বাচনী প্রচারকালে কোনো হিংসা বা ধাক্কা দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি এবং ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন করা হবে। তবে তারা আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা করবে।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় দলের আইনজীবী দল আদালতে অভিযোগ দায়ের করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনও ঘটনাটি নজরে রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ভোলা-৪ আসনে চলমান নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এখন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকল রাজনৈতিক দলকে আইন মেনে চলা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments