সিমন্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান নির্বাচন‑সংক্রান্ত বিরতি ও আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পরিকল্পনা শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সূচি স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সর্বশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়কালে সমস্ত দেশীয় টুর্নামেন্ট ও সিরিজ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের সময়কালে খেলোয়াড় ও স্টাফদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা।
বিরতির সময়কালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় দলের সদস্যরা ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে, কোচিং স্টাফরা বিশ্লেষণাত্মক সেশন চালিয়ে দলের কৌশলগত প্রস্তুতি বাড়াবে। সিমন্সের মতে, এই সময়টি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক পুনরুজ্জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে, বাংলাদেশ দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কিছু প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করা হবে। যদিও নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের নাম এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে বোর্ডের সূত্রে বলা হয়েছে, এই ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের আগে দলকে শীর্ষ ফর্মে আনতে সহায়তা করবে। সিমন্স জোর দিয়ে বলেন, এই প্রস্তুতি সিরিজগুলো দলকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য মানসিক ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করবে।
বিরতির পরের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের একটি ম্যাচ, যেখানে বাংলাদেশ দলকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। সিমন্স উল্লেখ করেন, এই ম্যাচটি দলকে বিশ্বকাপের মূল টুর্নামেন্টের জন্য মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরের সময়ে স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ সুবিধাগুলো সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে, যা দলকে সর্বোচ্চ স্তরে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দ্রুতই ক্রিকেট কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। তারা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ক্রিকেটের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুসারে সকল প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে। সিমন্স এই বিষয়ে আশাবাদী, তিনি বলেন, “বিরতি আমাদেরকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে এবং বিশ্বকাপের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
সিমন্সের মন্তব্যের পাশাপাশি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “বিরতি আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ। একই সঙ্গে, আমরা ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে খেলোয়াড় ও ভক্ত উভয়েই সর্বোচ্চ আনন্দ পেতে পারেন।”
এই সময়ে ভক্তদের জন্যও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের পরের প্রথম ম্যাচে টিকিটের মূল্য নির্ধারিত হবে, এবং স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। সিমন্স উল্লেখ করেন, “ভক্তদের সমর্থন আমাদের জন্য অপরিহার্য, এবং আমরা তাদের নিরাপদ ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সচেষ্ট থাকব।”
সারসংক্ষেপে, সিমন্সের আশাবাদ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্পষ্ট পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনের বিরতি ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি দুটোই ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। দলটি এখন পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।



