রাউজান জেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় ৩ বছর বয়সী মেজবাহ নামের শিশুটি গভীর টিউবওয়েল গর্তে পড়ে গিরফে আটকে যায়। স্থানীয়দের জানামতে গর্তটি তিন বছর আগে সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, তবে তা যথাযথভাবে ভরাট করা হয়নি।
মেজবাহের মা রাশেদা বেগম জানান, গর্তটি বাড়ির পাশে ঢালু স্থানে তৈরি হয়েছিল এবং পরিবারটি আগে থেকেই সেখানে খড়কুটো দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করছিল। বিকেল সময় তিনি ঘরে ছিলেন, সন্তানটি পাশের মাঠে খেলছিল এবং হঠাৎ গর্তে পড়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়। মা গর্তের মধ্যে শিশুটির কান্না শোনার পর তৎক্ষণাৎ গর্তে পৌঁছে তাকে বের করার চেষ্টা করেন, তবে গহীরা ও সরুতা কারণে সফল হতে পারেননি।
মেজবাহের বাবা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কাজের মধ্যে ছিলেন এবং গর্তে শিশুর পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ গর্তের দিকে দৌড়ে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন। তিনি গর্তের ভিতরে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ সাহায্য চেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, তবে গর্তের গভীরতা ও সরুতা তাদের কাজকে কঠিন করে দেয়। ৪:৩০ টার দিকে রাউজান থানা থেকে ওসিআই সাজেদুল ইসলাম পলাশ গৃহস্থালীর কাছ থেকে কল পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ৫ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গর্তের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে গর্তের ভিতরে শিশুটিকে বের করার কাজ শুরু করেন। গর্তের প্রস্থ ও গভীরতা যথেষ্ট বড় হওয়ায় উদ্ধার কাজ ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গর্তটি ৩-৪ বছর আগে টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, তবে কাজ শেষ হওয়ার পর তা পুনরায় ভরাট করা হয়নি। এই অবহেলার ফলে গর্তটি উন্মুক্ত অবস্থায় রয়ে গিয়ে স্থানীয় শিশুদের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গর্তের পাশে মাটি ও পাথর সরিয়ে গর্তের প্রান্তকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য টিউব ও লাইট সরবরাহ করে শিশুটির জীবন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে গর্তের ভিতরে শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, গর্তের অবস্থা ও শিশুর অবস্থান যাচাই করার পর যথাযথ তদন্ত শুরু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গর্তটি সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জবাবদিহি করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গর্তের সঠিকভাবে বন্ধ করা আবশ্যক।
স্থানীয় প্রশাসন গর্তের পুনরায় বন্ধ করার কাজের ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং একই ধরনের অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা রোধে টিউবওয়েল প্রকল্পের পরিদর্শন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গিরফে আটকে থাকা শিশুর পরিবার ও গ্রামবাসীরা উদ্বেগে ভরপুর, তারা ফায়ার সার্ভিসের কাজের দ্রুত সমাপ্তি ও শিশুর নিরাপদ বের হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। বর্তমানে উদ্ধার কাজের অগ্রগতি ও শিশুর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক আপডেট পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গর্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের কাজের পর গর্ত বন্ধ করার প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।



