চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যাবেলা চার বছর বয়সী সাইফুল নামের একটি শিশু গভীর নলকূপে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া জয়নগর এলাকা। শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শিশুটি মিসবাহ নামে এক বাসিন্দার ছেলে, যাকে সাইফুল আজমের পুত্র হিসেবে পরিচিত। বিকেলবেলা মিসবাহের বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সে অজান্তেই খোলা নলকূপের গর্তে পা দেয়। গর্তের আকার ও গভীরতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
রাউজান থানার ওয়েসি অফিসার মো. সাজেদুল ইসলাম স্ট্রিমের মতে, “দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক খবর পাওয়া যায়নি।” তিনি জানান, উদ্ধার কাজের জন্য ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে।
গর্তের আশেপাশের রাস্তা কিছুটা দুর্গম হওয়ায় গাড়ি ও সরঞ্জাম পৌঁছাতে সময় লাগছে। রাস্তায় পাকা রাস্তায় না থাকায় শাবল ও গাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। গর্তের গভীরতা নিশ্চিত না হওয়ায় কদাল ব্যবহার করে মাটি কেটে শিশুকে বের করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের দলগুলো গর্তের প্রান্তে শাবল, কদাল ও হ্যান্ডহেল্ড লাইট ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গর্তের প্রান্তে সুরক্ষা জাল বসিয়ে সম্ভাব্য স্লিপেজ রোধের ব্যবস্থা নিয়েছে। গর্তের ভিতরে শিশুর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য অডিও ডিভাইস ও আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশের উপস্থিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তা উদ্ধার কাজকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন গর্তের চারপাশে সাপোর্ট টিম গঠন করে শাবল ও কদাল সরবরাহে সহায়তা করছে। এছাড়া তারা গর্তের আশেপাশে নিরাপত্তা বজায় রেখে কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ রোধ করছে।
অধিকাংশ সময়ে গর্তের গভীরতা ও শিশুর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় কাজের গতি ধীর। ফায়ার সার্ভিসের দলগুলো গর্তের তলায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও মানবশক্তি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে। গর্তের তলায় পৌঁছানোর পর শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করা হবে।
অফিসার মো. সাজেদুল ইসলাম স্ট্রিম উল্লেখ করেছেন, “গর্তের গভীরতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তাই আমাদের কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিতে হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে আমরা যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে নিরাপদে বের করার চেষ্টা করছি।” এই বিবৃতি থেকে উদ্ধার কাজের গুরুত্ব ও জটিলতা স্পষ্ট হয়েছে।
গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা থাকায় শিশুর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিশুটি যদি গর্তের তলে পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও রেসকিউ সাপোর্ট প্রদান করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাউজান থানার তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা অবহেলার দিকগুলো যাচাই করবে। গর্তের মালিকানা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
উদ্ধার কাজ চলমান থাকায় রাউজান এলাকার বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও পুলিশ সহযোগিতায় শিশুটির নিরাপদ উদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপডেট প্রদান করবে।



