গুগল রেডউড মেটেরিয়ালসে নতুন সিরিজ‑ই তহবিলের মাধ্যমে ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা এআই ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য শিল্প স্থানে শক্তি সরবরাহের জন্য ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও এনার্জি স্টোরেজ ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। রেডউডের এই তহবিল সংগ্রহের প্রধান লক্ষ্য হল ইলেকট্রিক যানবাহনের পুরোনো ব্যাটারিগুলোকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাইক্রো‑গ্রিডে রূপান্তর করা, যা উচ্চ শক্তি চাহিদা সম্পন্ন ডেটা সেন্টারকে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
সিরিজ‑ই রাউন্ডটি অক্টোবর মাসে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারে শুরু হয়েছিল, যার নেতৃত্ব দিতেন ভেঞ্চার ফার্ম ইক্লিপ্স। তাতে এনভিডিয়ার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শাখা এনভেন্টার্সের কৌশলগত বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গুগল এই রাউন্ডে নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে যোগদান করে মোট তহবিলকে ৪২৫ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি করেছে। ক্যাপ্রিকর্ন ও গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো পূর্ববর্তী বিনিয়োগকারীরাও অতিরিক্ত তহবিল প্রদান করে রাউন্ডকে সমর্থন করেছে।
রেডউডের পোস্ট‑মানি মূল্যায়ন ৬ বিলিয়ন ডলারের উপরে, যা পূর্বের মূল্যায়নের তুলনায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই রাউন্ডের মাধ্যমে কোম্পানির মোট তহবিল সংগ্রহ ৪.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও এনার্জি স্টোরেজ ক্ষেত্রে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। যদিও সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি, সূত্র অনুযায়ী কোম্পানির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেডউড মেটেরিয়ালস ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রাক্তন টেসলা সিটিও জে.বি. স্ট্রাউবেল। কোম্পানির মূল মিশন হল ব্যাটারির চক্রাকার সরবরাহ শৃঙ্খল গঠন, যাতে ব্যবহার শেষে অবশিষ্ট উপাদানগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে এটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের মতো ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের ব্যাটারি স্ক্র্যাপ রিসাইক্লিংয়ে মনোযোগ দেয়।
রেডউডের রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় লিথিয়াম, নিকেল ও কোবাল্টের মতো মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত খনির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পুনরুদ্ধারকৃত উপকরণগুলো পরে প্যানাসনিকের মতো গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়, যারা সেগুলো নতুন ব্যাটারি উৎপাদনে ব্যবহার করে। এই সরবরাহ চক্রের মাধ্যমে কাঁচামালের পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং খরচ হ্রাসের লক্ষ্য অর্জিত হয়।
কয়েক বছর আগে রেডউড ক্যাথোড উৎপাদনেও প্রবেশ করে, যা ব্যাটারি উৎপাদনের মূল উপাদান। ক্যাথোড ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোম্পানি কাঁচামাল সরবরাহের পাশাপাশি উচ্চ মানের ব্যাটারি উপাদান সরবরাহে সক্ষম হয়েছে। এই ধাপটি রেডউডকে ব্যাটারি শিল্পের সম্পূর্ণ মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
গত গ্রীষ্মে রেডউড এনার্জি নামে একটি নতুন ব্যবসা লঞ্চ করা হয়, যা ব্যবহারযোগ্য না হওয়া ইভি ব্যাটারিগুলোকে মাইক্রো‑গ্রিডে রূপান্তর করে। এই মাইক্রো‑গ্রিডগুলো বড় আকারের শিল্প স্থাপনায় এবং এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হয়। ব্যাটারিগুলোকে পুনরায় রিসাইক্লিংয়ের আগে এইভাবে ব্যবহার করা হলে অতিরিক্ত শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
গুগল, এনভিডিয়া ও অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির এই রাউন্ডে অংশগ্রহণের মূল কারণ হল এনার্জি স্টোরেজের মাধ্যমে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য বিশাল পরিমাণে বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যা প্রচলিত গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ায়। রেডউডের মাইক্রো‑গ্রিড সমাধান এই চাহিদা মেটাতে স্কেলযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রদান করে।
বাজার বিশ্লেষকরা রেডউডের এই তহবিল সংগ্রহকে ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও এনার্জি স্টোরেজ সেক্টরের দ্রুত বর্ধনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। গুগলের বিনিয়োগ কোম্পানির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও স্কেল বাড়াতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য শক্তি সরবরাহে। একই সঙ্গে, রেডউডের মূল্যায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
সামগ্রিকভাবে, গুগলের ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রেডউডকে ব্যাটারি রিসাইক্লিং থেকে এনার্জি স্টোরেজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সমাধান প্রদানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তি চাহিদা এবং টেকসই শক্তি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা মিলিয়ে রেডউডের ব্যবসা মডেল দীর্ঘমেয়াদে বাজারের মূলধারায় স্থান পাবে বলে আশা করা যায়।



