23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস ২০২৬-এ সামরিক সহযোগিতা জোরদার

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস ২০২৬-এ সামরিক সহযোগিতা জোরদার

ঢাকা সেনানিবাসে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস ২০২৬-এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর একমত প্রকাশ করেন। দুই দিনের আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল প্রশিক্ষণ, কৌশলগত সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমন্বয় শক্তিশালী করা।

আইএসপিআরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টকসের সমাপ্তি ২৮ জানুয়ারি বুধবারে ঘোষিত হয়। এই বৈঠকটি পূর্বে ৮-১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একই ধারার ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকসের পরবর্তী ধাপ হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল।

বাংলাদেশের দিক থেকে ২২ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের লে. কর্নেল মোহাম্মদ বদরুল হক। দলটি বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত, যারা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং কৌশলগত বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি চারজন সদস্য নিয়ে গঠিত, যার প্রধান ছিলেন প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের নিরাপত্তা সহযোগিতা বিভাগের মেজর মাইকেল জেকব ওসটার। দলটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উপস্থাপন করে পারস্পরিক শিখনের সুযোগ তৈরি করে।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ূন কবীর উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বৈঠকের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আলোচনার সময় উভয় পক্ষই সামরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদভাবে মতবিনিময় করেন। প্রশিক্ষণ আদান-প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সামরিক সরঞ্জামের আপগ্রেডেশনকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বিশেষ করে যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজনের প্রস্তাব উভয় পক্ষের মধ্যে গৃহীত হয়। উভয় দেশই নতুন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, সিমুলেশন প্রযুক্তি এবং বাস্তবিক মহড়া চালিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করে।

কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশই ভারতীয় মহাসাগরে শিপিং লেনের নিরাপত্তা ও সাইবার হুমকির মোকাবেলায় সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় সমন্বিত মানবিক সহায়তা প্রদানকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। দু’দেশের সেনাবাহিনী কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নির্ধারণের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিং মেকানিজম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের সমাপ্তিতে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে নিয়মিত সংলাপ ও যৌথ মহড়া চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন ল্যান্ড ফোর্সেস টকসের আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা দু’দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

এই সমঝোতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments