দুর্নীতি দমন কমিশন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের সন্দেহে বেবিচকের (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারটি বুধবার ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় সম্পন্ন হয় এবং দুঃখজনকভাবে এই মামলার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেপ্তার সম্পর্কে দুঃসাহসিক তথ্য দুঃনতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, হাবিবুর রহমানকে সশস্ত্র দল দ্বারা গৃহীত করে সেগুনবাগিচা থেকে সরাসরি আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দুঃনতি দমন কমিশনের দ্রুত কর্মের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
দুঃনতি দমন কমিশন হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সোপর্দের আবেদন জানিয়েছে এবং তাকে আটক রাখার অনুরোধ করেছে। দুঃনতি দমন কমিশনের দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে, মামলার তদন্ত চলাকালে আসামি সাক্ষীদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে তার গ্রেপ্তার অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
মামলাটি ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি দুঃনতি দমন কমিশন দাখিল করে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, হাবিবুর রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজের সময়ে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থের মূল উৎস হিসেবে প্রকল্পের বাজেটের অতিরিক্ত ব্যয় এবং অননুমোদিত খরচ উল্লেখ করা হয়েছে।
দুঃনতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে প্রকাশ পায় যে, প্রকল্পের কাজের জন্য স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে ‘অবৈধ’ সুবিধা নিয়ে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে কো‑কন্ট্রাক্টর হিসেবে যুক্ত করা হয়। দুঃনতি দমন কমিশন দাবি করে যে, এই প্রক্রিয়ায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার শর্তাবলী উপেক্ষা করা হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সরাসরি সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই অনিয়মগুলোকে সহজতর করা হয়েছে। দুঃনতি দমন কমিশন অনুসারে, হাবিবুর রহমান প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যয় বৃদ্ধি, অনুমোদন প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় এবং অর্থ ছাড় সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
দুঃনতি দমন কমিশন উল্লেখ করে যে, এসব অনিয়মের ফলে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয় এবং স্থানীয় এজেন্ট অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে যুক্ত করা হয়, যা প্রকল্পের প্রকৃত খরচের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয় ঘটিয়েছে। এই ‘লুটপাট’ের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
আদালতে হাবিবুর রহমানের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। দুঃনতি দমন কমিশন যুক্তি দিয়েছে যে, জামিন দিলে আলামত নষ্ট এবং সাক্ষীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়বে, ফলে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
বর্তমানে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সোপর্দের আবেদন শোনা হচ্ছে এবং দুঃনতি দমন কমিশন অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দুঃনতি দমন কমিশন ভবিষ্যতে আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার পর কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দুঃনতি দমন কমিশন উল্লেখ করেছে যে, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুনভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং কোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
দুঃনতি দমন কমিশনের এই পদক্ষেপটি দেশের অবকাঠামো প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এধরনের অভিযোগের মোকাবিলায় আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।



