কহো স্যুয়ে, নারিকেল দুধে ভেজা নুডল স্যুপ, আজকের দিনে বাংলা পরিবারে উৎসবের খাবার হিসেবে জনপ্রিয়, তার উৎপত্তি মিয়ানমার এবং ১৯৬২ সালের রাজনৈতিক অশান্তি পরবর্তী মেমন সম্প্রদায়ের অভিবাসনের ফলে উপমহাদেশে পৌঁছেছে।
এই খাবারটি নুডলকে গরম নারিকেল স্যুপে ডুবিয়ে, মশলা ভাজা, মুরগি, সেদ্ধ ডিম, ভাজা লেন্টিল ক্র্যাকার, শুকতি গুঁড়া, তাজা ধনেপাতা ও কাঁচা কাঁচি মরিচের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
মিয়ানমারে এটি “ohn no khao swè” নামে পরিচিত, যার অর্থ সরাসরি “নারিকেল দুধের নুডল”; স্থানীয় রাস্তায় এটি দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় খাবার।
ব্রিটিশ শাসনকালে গুজরাটের মুসলিম বণিক মেমনরা রাঙ্গুন ও অন্যান্য শহরে বসতি স্থাপন করে, স্থানীয় নুডল স্যুপ গ্রহণ করে এবং নিজের স্বাদমতো পরিবর্তন আনে।
২ মার্চ ১৯৬২ তারিখে জেনারেল নে উইন সামরিক কুপে ক্ষমতা দখল করে, ফলে জাতীয়তাবাদী নীতি তীব্র হয় এবং বিদেশি সম্প্রদায়ের প্রতি সন্দেহ বাড়ে।
এর পরের বছরগুলোতে বিদেশি-বিদেশি নীতি প্রয়োগের ফলে বহু ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবার, মেমনসহ, মিয়ানমার ত্যাগ করে ভারত ও পাকিস্তানে ফিরে যায়, সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পদ ও রন্ধনপ্রণালীও নিয়ে।
নতুন দেশে বসে তারা নারিকেল দুধের নুডল স্যুপকে ঘরোয়া রান্নায় অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে স্বাদকে সামঞ্জস্য করে।
বাংলাদেশে, যেখানে প্রধান খাবার রাইস, সেখানে কহো স্যুয়ে দ্রুতই পারিবারিক ভোজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সপ্তাহান্তের মিলনমেলায় প্রিয় বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
অভিবাসী পরিবারগুলো স্থানীয় ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ও সেদ্ধ ডিমের মতো উপাদান যোগ করে, তবে মূল নারিকেল স্যুপ ও নুডল ভিত্তি অপরিবর্তিত থাকে।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে “খাদ্যগত সংস্কৃতি সংযোজন” হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে অভিবাসী খাবার হোস্ট দেশের স্বাদে মিশে নতুন রূপ নেয়, তবে মূল আরামদায়কতা বজায় থাকে।
কহো স্যুয়ের টিকে থাকা প্রমাণ করে যে খাবারই সাংস্কৃতিক সেতু হতে পারে, যা বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়ের পরিচয় রক্ষা করে এবং হোস্ট দেশের রন্ধনশৈলীতে সমৃদ্ধি যোগায়।
আজ ঢাকা ও কলকাতার রেস্টুরেন্টে এই স্যুপটি নারিকেল দুধের গাঢ় রঙে, ভাজা লেন্টিল ক্র্যাকার (নমকপারা) ও তাজা হার্বসের সঙ্গেই পরিবেশন করা হয়, যা মিয়ানমার মূল ও দক্ষিণ এশিয়ার রূপান্তর উভয়ই প্রতিফলিত করে।
কহো স্যুয়ের ইতিহাস দেখায় কীভাবে রাজনৈতিক ঘটনার ফলে মানুষ স্থানান্তরিত হয় এবং তাদের রন্ধনপ্রথা নতুন ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলা পাঠকের জন্য এই খাবারটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে থালার স্বাদে লুকিয়ে আছে অভিবাসন, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঐতিহ্যের অবিরাম পরিবর্তনের গল্প।



