একক মা সইবোনের সঙ্গে ব্রুনেইতে ১০ দিনের সফল পরিকল্পিত ভ্রমণ অক্টোবর মাসে সম্পন্ন হয়েছে; ১৫ মাসের শিশুকে নিয়ে একা ভ্রমণ করা তারকমের মা-ছেলেদের মধ্যে এখনও বিরল।
সেই মা, সায়মা রহমান, দশ বছর আগে নিজের ২৫তম জন্মদিনে একক ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তখন থেকে প্রতি অক্টোবর নতুন গন্তব্যে যাত্রা করার রীতি গড়ে তোলেন।
গত বছরও এই রীতি বজায় রাখতে তিনি পরিকল্পনা শুরু করেন, তবে ভিসা অনুমোদনের দেরি তাকে দু’টি বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে রাখে। একদিকে মালয়েশিয়ার জন্য ছয় মাসের মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা ইতিমধ্যে হাতে ছিল, অন্যদিকে তিনি নতুন কোনো দেশ অন্বেষণ করতে চেয়েছিলেন।
ব্রুনেইকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে অচিহ্নিত দেশগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেষমেশ ব্রুনেইকে নির্বাচন করেন।
ভিসা আবেদন দ্রুত সম্পন্ন হয়; দূতাবাসে জমা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই অনুমোদন পেয়ে তিনি পরিকল্পনা এগিয়ে নেন।
পরবর্তী দুই সপ্তাহে তিনি ১০ দিনের সফরের জন্য বিশদ সূচি তৈরি করেন, যেখানে গন্তব্যে যাতায়াত, হোটেল, খাবার এবং শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সূচি তৈরির সময় অতিরিক্ত পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগের মুহূর্তও আসে, তবে তিনি স্বীকার করেন যে অতিরিক্ত প্রস্তুতি তার মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
মা হিসেবে নিজের অন্তর্দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বাস রাখেন যে তার শিশুকে তিনি সবচেয়ে ভাল জানেন; তাই কোনো অজানা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
ইব্রাহিম, তার ১৫ মাসের পুত্র, জন্ম থেকে ভ্রমণের সঙ্গে পরিচিত; তাই নতুন পরিবেশে তার কোনো বড় ভয় প্রকাশ পায়নি।
সূচিতে শিশুর জন্য উপযোগী কার্যকলাপ এবং বড়দের জন্য আকর্ষণীয় স্থান দুটোই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে দুজনেরই সময় উপভোগ্য হয়।
উদাহরণস্বরূপ, শপিং করার সময় তিনি এমন একটি মল বেছে নেন যেখানে ইনডোর ও আউটডোর পার্ক উভয়ই রয়েছে, যাতে শিশুটি নিরাপদে খেলতে পারে এবং মা শপিংয়ে মনোযোগ দিতে পারেন।
ব্রুনেইয়ের প্রধান পর্যটনস্থল যেমন মসজিদ, জাদুঘর এবং প্রাকৃতিক পার্কের সফরসূচি শিশুর কৌতূহল জাগাতে এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দিতে পরিকল্পিত হয়।
প্রতিটি দিনের শেষে তিনি হোটেলের শিশুর জন্য নিরাপদ কক্ষ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন, যাতে দীর্ঘ যাত্রার পরেও উভয়েরই শক্তি বজায় থাকে।
এই ধরনের একক মা-শিশু ভ্রমণ আমাদের সমাজে এখনও অস্বাভাবিক বলে গণ্য হয়, তবে সায়মার অভিজ্ঞতা দেখায় যে সঠিক পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব।
তার সফল যাত্রা অন্যান্য মা-দের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করতে পারে, বিশেষ করে যারা সন্তানকে নিয়ে স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার স্বপ্ন দেখেন।
সায়মা ভবিষ্যতে আবারও নতুন গন্তব্যে একা ভ্রমণ করার পরিকল্পনা করছেন, এবং তিনি আশা করেন যে তার গল্প আরও বেশি পরিবারকে ভ্রমণকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত করবে।



