চট্টগ্রাম বিভাগের রাউজান জেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ৩ বছর বয়সী মিসবাহ নামের একটি শিশুর গহীন নলকূপের গর্তে পতন ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা গর্তে শিশুর পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার দলকে জানায়।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই চারটি ইউনিটের দল গর্তের চারপাশে ঘেরা অবস্থায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। গর্তের গভীরতা ও প্রস্থ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও, দলটি বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে শিশুটিকে নিরাপদে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
রাউজান থানার ওসিআই মো. সাজেদুল ইসলাম মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানান, শিশুটি তার বাড়ির কাছাকাছি অবস্থিত পুরনো নলকূপের গর্তে পড়ে। গর্তের সঠিক মাপ ও কতটা গভীর তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গর্তটি বেশ গভীর এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। গর্তে কীভাবে শিশুটি পড়ে গিয়েছে, তা তদন্তের অধীনে রয়েছে।
আনোয়ার হোসেনের মতে, গর্তে প্রবেশের সময় শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। দলটি গর্তের প্রান্তে সুরক্ষা জাল এবং ল্যাডার ব্যবহার করে শিশুটিকে ধীরে ধীরে উপরে টেনে আনে। উদ্ধারকাজের সময় কোনো অতিরিক্ত আঘাতের রিপোর্ট না থাকলেও, শিশুটির অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনার পূর্বে, গত ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোরে একটি পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে ২ বছর বয়সী সাজিদ নামের শিশুটি হারিয়ে গিয়েছিল। ৩২ ঘণ্টা পর তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নলকূপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। রাউজানের নলকূপের গর্তে মিসবাহের পতনও একই ধরনের নিরাপত্তা সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় প্রশাসন গর্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাউজান পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে গর্তের চারপাশে সুরক্ষা বেড়া স্থাপন, সতর্কতা চিহ্ন বসানো এবং ভবিষ্যতে অনধিকার প্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, গর্তের মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আইনি দায়িত্বও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে নলকূপ ও গর্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন অনুসারে, গর্তের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাউজান থানার ওসিআই উল্লেখ করেন, গর্তের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারীকে আইনের আওতায় দায়বদ্ধ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে।
গৃহস্থালির নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকারও কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহমধ্যে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত ও গড়ি সম্পর্কে তথ্য প্রদান, নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে গর্তের অবস্থা, মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। গর্তের গভীরতা ও গঠন বিশ্লেষণের জন্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এছাড়া, শিশুর পরিবারকে মানসিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং গর্তের চারপাশে নিরাপত্তা চিহ্ন স্থাপন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গর্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গভীর নলকূপের গর্তে শিশুর পতন একটি দুঃখজনক ঘটনা হলেও, দ্রুত উদ্ধার কাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা শিশুটির জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং জনসচেতনার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



