28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৩০ দলীয় চুক্তি ও গণভোটের আহ্বান

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৩০ দলীয় চুক্তি ও গণভোটের আহ্বান

ঢাকার একটি হোটেলে ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জুলাই সনদকে বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৩০টি রাজনৈতিক দল একত্রে নয় মাসের ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সনদের এজেন্ডা গঠন করেছে এবং চুক্তির বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর।

এই সভা “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে” শীর্ষক থিমে অনুষ্ঠিত হয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। আলী রীয়াজের মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদ ও জমিদারিতন্ত্রের উত্থান রোধ, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মূল শর্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়তে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই এবং সংবিধান সংস্কারসহ সব ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকা উচিত।

রীয়াজের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং এখন গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রত্যেক নাগরিককে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে অনুভব করা যায়। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটের জন্য জনগণকে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানান, যেখানে সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থাকবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির ও ইনস্টিটিউটের ডিস্টিংগুইশড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহানও বক্তব্য রাখেন। উভয়েই রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এছাড়া, চৌধুরী সামিউল হক সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যা বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রস্তুত করা হয়।

আলোচনার সময় উপস্থিত কিছু রাজনৈতিক দল ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, যাতে চুক্তির বাস্তবায়ন সকলের স্বার্থে হয়। যদিও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সকল পক্ষই দেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

আলি রীয়াজের মতে, ন্যায়বিচার ও সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্রের সাফল্য অসম্ভব, এবং তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়তে চাই, তবে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।” এই বক্তব্যের পর তিনি গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর আহ্বান জানান, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

সারসংক্ষেপে, জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত চুক্তি, ন্যায়বিচার ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। এই প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের সমন্বিত অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে একটি সমতা, মানবিক ও মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments