কিরগিজ নীয়ো-নয়র থ্রিলার ‘মেরগেন’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারড্যামে (IFFR) প্রথমবারের মতো ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিশ্বপ্রদর্শনী পাবে। চিংগিজ নারিনভের দ্বিতীয় পরিচালনায় তৈরি এই ছবি, তিয়ান শান পর্বতমালার তুষারময় প্রাকৃতিক দৃশ্যকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছে। চলচ্চিত্রটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক অপরাধের মিশ্রণ তুলে ধরে, যা দর্শকদের নতুন ধরণের নীয়ো-নয়র অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
চিত্রটি কিরগিজস্তানের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত, যেখানে শীতের তুষার দিয়ে ঢাকা টিয়ান শান পর্বতমালা দৃশ্যমান। এই অঞ্চল পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এবং এখনো তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক চিহ্ন বহন করে। শীতল বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা প্রাচীন কিংবদন্তি, চলচ্চিত্রের মুডকে গভীরতা দেয়।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে নুরতায় নামের এক পুলিশ অফিসার, যাকে ওমুরবেক ইজরাইলভ অভিনয় করেছেন। এক ভ্লগার দুর্ঘটনাক্রমে একটি মৃতদেহ আবিষ্কারের পর নুরতায় তদন্ত শুরু করে, যা তাকে প্রাক্তন স্বর্ণখনি শহরের অরণ্যের গহ্বরে নিয়ে যায়। তদন্তের পথে তিনি কেরিম নামের স্থানীয় অপরাধী ও শিকারীকে মুখোমুখি হন, যার সঙ্গে জ্যানিল নামের এক তরুণীও যুক্ত।
ক্যাস্টে নাজিম মেনডেবাইরভ কেরিমের ভূমিকায়, আর কালিপা তাশতানোভা জ্যানিলের চরিত্রে উপস্থিত। জ্যানিলকে কেরিম কঠোরভাবে রক্ষা করে, যা গল্পে অতিরিক্ত উত্তেজনা যোগ করে। প্রধান চরিত্র নুরতায়ের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক গাঁথা, কাহিনীর জটিলতা বাড়ায়।
চিত্রনাট্য লিখেছেন আইকিজ গাপারোবা, আর চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন উরমাত তেনদিক। সম্পাদনা কাজ সম্পন্ন করেছেন নাতালিয়া পোলিয়াকোবা, যাঁর কাজ ছবির রিদম ও টোনকে সুনির্দিষ্টভাবে গড়ে তুলেছে। সাউন্ড ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টের সমন্বয়ে ছবিটি একটি স্বতন্ত্র নীয়ো-নয়র শৈলী অর্জন করেছে।
প্রযোজনা কাজ পরিচালনা করেছেন চিংগিজ নারিনভ এবং আইদা উসোনোবা, যারা সিটিল্যাব ফিল্মসের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন। কিরগিজফিল্ম, দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম চলচ্চিত্র স্টুডিও, এই সহযোগিতায় মূল অংশীদার। সিটিল্যাব ফিল্মস ছবির বিক্রয় ও আন্তর্জাতিক বিতরণ পরিচালনা করবে।
‘মেরগেন’ ইতিমধ্যে বিশকেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে কেন্দ্রীয় এশিয়ার প্রতিযোগিতায় সেরা চলচ্চিত্রের গ্র্যান্ড প্রি পুরস্কার জিতেছে। এই স্বীকৃতি ছবির গুণগত মান ও গল্পের প্রভাবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে। পুরস্কার জয়ী হওয়ায় ছবির রটারড্যাম প্রিমিয়ার আরও প্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে।
চিংগিজ নারিনভের চলচ্চিত্র শিক্ষা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হয়, যেখানে তিনি চলচ্চিত্রশিল্পে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ডকুমেন্টারি নির্মাণের ত্রিমাসিক কোর্স সম্পন্ন করেন, যা তার সামাজিক বিষয়বস্তুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘আফটার দ্য রেইন’ কিরগিজস্তানের প্রচলিত ‘ব্রাইড কিডন্যাপিং’ সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি। এই চলচ্চিত্রে তিনি সামাজিক সমস্যার গভীর বিশ্লেষণ ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছেন, যা সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ‘মেরগেন’ এ তিনি একইভাবে ঐতিহাসিক ও সামাজিক দিককে আধুনিক থ্রিলার ফরম্যাটে মিশ্রিত করেছেন।
‘মেরগেন’ কিরগিজের সমৃদ্ধ পৌরাণিক কাহিনী ও আধুনিক অপরাধের জটিলতা একত্রে উপস্থাপন করে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে। তুষারময় পর্বতমালার দৃশ্য, স্থানীয় সংস্কৃতির সূক্ষ্ম উপাদান এবং নীয়ো-নয়র শৈলীর সংমিশ্রণ ছবিটিকে অনন্য করে তুলেছে।
রটারড্যাম ফেস্টিভালের এই বিশ্বপ্রদর্শনী কিরগিজ চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াবে এবং অঞ্চলের সৃজনশীল প্রতিভাকে বিশ্ব মঞ্চে উপস্থাপনের সুযোগ দেবে। দর্শক ও সমালোচক উভয়ই এই নতুন নীয়ো-নয়র অভিজ্ঞতার অপেক্ষায়, যা কিরগিজের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে আধুনিক সিনেমার সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন গল্পের স্রোত তৈরি করবে।



