একটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে যে, বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারির আগে দেশে ফিরে আসবেন। পোস্টটি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে “লাইভ” চিহ্নসহ শেয়ার করা হয় এবং এতে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের একটি ভাষণ দেখানো হয়েছে।
ভিডিওটি “আজকের খবর” নামের পেজে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। পোস্টের ক্যাপশন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, “বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারির আগে দেশে ফিরে আসবেন”। স্ক্রিনের ডানদিকে পেজের লোগো এবং বাম কোণে “লাইভ” ও তারিখ দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পবনা জেলার জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ভাষণ দিচ্ছেন। তিনি পবনা ও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। ভাষণে কোনোভাবে শেখ হাসিনার ফিরে আসার কথা উল্লেখ নেই।
এই ক্লিপটি মূলত ১৬ মে ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত একটি ইউটিউব রিপোর্টের অংশ। সেই রিপোর্টটি মাসরঙ্গা সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়েছিল এবং একই দৃশ্য দেখায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন ২৪ এপ্রিল ২০২৩-এ শপথ গ্রহণের পর পবনা জেলার গভার্নমেন্ট এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে স্বাগত গ্রহণ করেন।
সেই অনুষ্ঠানে তিনি পবনা বাসিন্দাদের সামনে তার শপথের পর প্রথম ভাষণ দেন। ভাষণের সময় তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলেন। ঐ সময়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তবে ভাষণে তার ফিরে আসার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।
ফেসবুকের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, মূল ক্লিপের একই অংশ ব্যবহার করা হয়েছে, তবে তার উপরে নতুন ক্যাপশন যোগ করে মিথ্যা দাবি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওতে কোনো অতিরিক্ত অডিও বা টেক্সট যোগ করা হয়নি যা শেখ হাসিনার ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
এই কারণে, শেয়ার করা দাবি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন এবং পুরনো ঘটনার সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি ২০২৩ সালের একটি স্বাগত অনুষ্ঠানের অংশ, যেখানে প্রেসিডেন্টের ভাষণই মূল বিষয়। কোনো সূত্রে বলা হয়নি যে তিনি শেখ হাসিনার ফিরে আসার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
এ ধরনের গুজব সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে বাস্তব তথ্যের অভাবে জনমত গঠন ভুল পথে যেতে পারে। তাই ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা তথ্যের উৎস যাচাই করা জরুরি।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে, ভবিষ্যতে এমন মিথ্যা তথ্যের প্রচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত শেয়ার না করা, এবং সংশ্লিষ্ট পেজগুলোকে দায়বদ্ধ করা উচিত।



