বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী র্যালিতে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন। র্যালি বুধবার বিকালে থাকুরগাঁওয়ের মোলানি বাজারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় দলীয় নেতারা ও সমর্থকরা সমাবেশে অংশ নেন।
ফখরুলের বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, হাশিনার বিদেশে গমন ও দলীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি সমর্থকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তিনি এ কথা তুলে ধরেন যে, এখন কোনো “নৌকা” নেই, অর্থাৎ দলীয় কাঠামো ভেঙে গেছে, ফলে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষার প্রয়োজন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখে তিনি আশ্বাস দেন, হিন্দু ভাইবোনদের কোনো ভয় না করে ভোট দিতে পারেন, কারণ বিএনপি তাদের পাশে আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা অন্যায় করে তাদের শাস্তি হবে, আর নিরপরাধ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি পূর্বের এমপি নির্বাচনের সময় ১৫ বছর আগে ভোটদান বাধা হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল।
এইবার তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে, যাতে প্রত্যেক ভোটার তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারবেন। তিনি বলেন, সঠিক ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রিয় সরকার গঠন করতে পারবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা আসবে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফখরুল জানান, যদিও মানুষ সম্পূর্ণ আরামদায়ক নয়, তবে মূল্যের বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি এখনও উদ্বেগের বিষয়। তবু তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং এখন মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বললেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে দেশের জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার দিকে কাজ করবে। তিনি স্বীকার করেন, এই নির্বাচন তার শেষ নির্বাচন, তাই তিনি ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন চেয়ে নিজের দায়িত্বপূর্ণ কাজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
র্যালির শেষে তিনি উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ধানের শীর্ষে ভোটের আহ্বান জানান। উপস্থিতদের মধ্যে থাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন স্তরের বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
ফখরুলের এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বিএনপির এই ধরনের সমর্থনসূচক বার্তা নির্বাচনী জোট গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে বিএনপি ভোটার ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উভয় দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে থাকুরগাঁও-১ মত সংবেদনশীল আসনে।
বিএনপি মহাসচিবের এই র্যালি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভোটারদের সরাসরি সম্বোধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, মির্জা ফখরুলের থাকুরগাঁও-১ র্যালি আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থকদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ, হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের আহ্বান নিয়ে গঠিত। তিনি ভোটারদের আশ্বাস দেন যে, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।



