জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বারে অনুষ্ঠিত দলের নির্বাচনী পদযাত্রার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশের সময় তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
ভূইয়া বলেন, “১৭ বছর লন্ডনে ছিলেন, আগে বাসের ভেতর থেকে নামুন এবং বাংলাদেশের অলিগলি, রাস্তাঘাট একটু হেঁটে দেখেন। বাংলাদেশকে আগে চেনেন, তারপরে আমরা ভরসা করতে পারব আমাদের জন্য কিছু করতে পারবেন কী না।” তিনি দেশের গড়ে ওঠা সমস্যাগুলোকে প্রথম হাতে জানার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জনগণকে নিজেরা পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান।
এরপর তিনি ১৭ বছরের নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে, “আমরা ১৭ বছরের নিপীড়ন দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছরের নিপীড়নের পর গত ১৭ মাসে আবার আরেক ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ১৭ বছরে আমরা দেখেছি, গুম, খুন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, যত ধরণের অন্যায়, অনাচার আছে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের পক্ষ থেকে সেগুলো আমরা পেয়েছি। কিন্তু গত ১৭ মাসে ক্ষমতায় না থাকা স্বত্ত্বেও একটি দল ঠিক সেই একই রকমের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণকে দিয়েছে।” তিনি বর্তমান সরকারের নীতিগুলোকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন এবং অতীতের দমনমূলক নীতি ও বর্তমানের অবস্থা তুলনা করে তার বিরোধিতা প্রকাশ করেন।
ভূইয়া আরও যোগ করেন, “আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিগলি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব। আমরা মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ম্যান্ডেট চাওয়া নেতৃত্ব। আমরা জুলাই অভ্যূত্থানে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করা নেতৃত্ব। আমরা তাদের মতো বিভিন্ন আজগুবি বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাই না। আমরা মাটি থেকে উঠে এসেছি। আমরা জানি মাটি ও মানুষের কি কি সমস্যা আছে এবং তার কি কি বাস্তববাদী সমাধান হতে পারে।” এভাবে তিনি দলের ভিত্তি ও উদ্দেশ্যকে জোর দিয়ে বললেন যে দলটি মাটির সঙ্গে যুক্ত এবং বাস্তবসম্মত সমাধান প্রদান করতে চায়।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সাইফুল ইসলাম শহীদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী ও যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই দলের নির্বাচনী কৌশল, সংগঠন কাঠামো এবং গ্রামীণ ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন।
সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দলটির উপস্থিতি দৃঢ় করা এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভিত্তি গড়ে তোলা। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা দলের নীতিমালা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন, যার উত্তর দলটির প্রতিনিধিরা সংক্ষিপ্তভাবে প্রদান করেন।
জাতীয় নাগরিক দল এই সমাবেশের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন বিকল্পের উপস্থিতি তুলে ধরতে চায় এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো শোনার চেষ্টা করে। সমাবেশের পর দলটি আগামী সপ্তাহে অন্যান্য জেলা ও শহরে সমান রকমের পদযাত্রা চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।



