ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঢাকা-৮ নির্বাচনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক দলের চিফ কো-অর্ডিনেটর নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ২৭ জানুয়ারি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ডিমের হামলার শিকার হন। ঘটনাস্থলে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাকে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা বলা হয়।
সেই ছবিতে দেখা ব্যক্তি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের তৃতীয় বর্ষের সম্মানজনক ছাত্র জাকির মাহমুদ। জাকির নিজে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সংযুক্তি রাখেন না এবং তার কোনো রাজনৈতিক পদবী নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি একই কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং তার প্রধান পরিচয় একজন ছাত্র।
জাকিরের মতে, তিনি জুলাই উত্থানের সময় পুলিশ গুলির শিকার হয়েছিলেন। সেই সময় তার শারীরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে তিনি কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তার রক্তাক্ত মুখ ও কাটা চোয়াল স্পষ্ট দেখা যায়। এই ছবি ও তার বিবরণ তার নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা হয়েছিল, যা পরে তদন্তে ব্যবহার করা হয়।
জাকিরের রাজনৈতিক অবস্থানও প্রকাশ পেয়েছে। গত বছর মার্চ ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে একটি ব্যানার শেয়ার করেন, যার ওপর লেখা ছিল “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ, অথবা মৃত্যু”। ব্যানারের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “রক্ত দরকার হলে রক্ত নিন; আওয়ামী লীগকে দফন করুন”। এই পোস্টটি তার আওয়ামী লীগের বিরোধী মনোভাবকে স্পষ্ট করে।
সেই একই সময়ে, সামাজিক মাধ্যমে জাকিরকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে চিহ্নিত করার গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। তবে তার ফেসবুক প্রোফাইলে কোনো ছাত্রলীগের সঙ্গে সংযুক্তি বা সদস্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাকিরের সরাসরি মন্তব্যে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে তিনি ছাত্রলীগের কোনো সদস্য নন এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।
ডিমের হামলা নিজেই রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়। নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারির ওপর ডিম নিক্ষেপের পেছনে কী প্রেরণা ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বাড়তে থাকা উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের হিংসাত্মক প্রকাশনা নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ডিম নিক্ষেপের দায়িত্বে কে, তা নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের সূচনা হয়নি, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের ফলে জাকিরের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত জীবনেও প্রভাব পড়তে পারে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে নির্দোষ না করে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে চিত্রায়িত করা তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক দলগুলো ও মিডিয়া সংস্থাগুলোকে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব পুনরায় জোর দিতে হবে। গুজবের দ্রুত বিস্তার এবং তাৎক্ষণিক সামাজিক মিডিয়া শেয়ারিংয়ের ফলে ভুল ধারণা দ্রুত গড়ে ওঠে, যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারির ওপর ডিমের হামলা এবং তার পাশে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে গড়ে ওঠা গুজবের মূল বিষয় হল, জাকির মাহমুদ ছাত্রলীগের নেতা নয়, বরং হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, যিনি জুলাই উত্থানে অংশগ্রহণের সময় আহত হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের বিরোধী মত প্রকাশ করেছেন। এই তথ্যের স্পষ্টতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাহিনীর সঠিক উপস্থাপনে সহায়তা করবে।



