22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগে

অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগে

ইসরায়েলি সামাজিক মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদের অস্ট্রেলিয়া ভিসা, তার ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের বিমানবন্দরে নির্ধারিত উড়ানের তিন ঘণ্টা আগে বাতিল করা হয়েছে। ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্কের অনুমোদনে নেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রীর অফিস জানায়, স্যামি ইয়াহুদের ভিসা সোমবার সন্ধ্যায় রদ করা হয় এবং তার অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি আরোপ করা হয়নি। মন্ত্রীর মতে, কোনো ব্যক্তিকে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নীতিগতভাবে ভুল।

টনি বার্ক আরও জোর দিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের জন্য সঠিক ভিসা ও বৈধ কারণ প্রয়োজন, এবং কোনো ব্যক্তি যদি বৈষম্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমাজে উত্তেজনা বাড়ায়, তবে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা স্বাভাবিক। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সাদৃশ্য রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

স্যামি ইয়াহুদ ৬ নভেম্বর তার সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে ধর্মীয় সহনশীলতা সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লিখেছিলেন, “যারা আমাদের প্রতি সহনশীল নয়, তাদের প্রতি সহনশীল হওয়া বন্ধ করার সময় এসেছে।” এই মন্তব্যকে ধর্মীয় বিদ্বেষের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইয়াহুদ যুক্তরাজ্যে বড় হয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলে বসতি স্থাপন করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক হিসেবে পরিচিত। তার এই পটভূমি অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছিল।

অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশন (এজিএ) জানায়, ইয়াহুদের অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন সিনাগগে এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এজিএয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বড় বড় ইভেন্টে তার উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করত।

ভিসা বাতিলের পর এজিএ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে, এবং উল্লেখ করে যে ইয়াহুদের বক্তৃতা বহু সংস্থার পরিকল্পিত প্রোগ্রামের অংশ ছিল। তারা বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ইভেন্টের পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।

এজিএ এক্স-এ একটি পোস্টে উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে হামলার পর ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লেও, ভিসা বাতিলের ক্ষমতা বাড়িয়ে নেওয়া উচিত নয়, বরং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া দরকার। তারা যুক্তি দেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত, তবে ব্যক্তিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের জন্য ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি রক্ষার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে, ইহুদি সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত সমালোচনা সরকারকে ভিসা নীতির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ক্ষেত্রে কীভাবে ভিসা অনুমোদন বা বাতিলের মানদণ্ড নির্ধারিত হবে, তা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এজিএ উভয়ই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে, তবে বিষয়টি এখনও জনমত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতর্কের বিষয়। সরকার ভিসা নীতি সংশোধনের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে, আর ইহুদি সংগঠনগুলো ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করতে পারে।

এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অভিবাসন নীতির সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে রয়ে যাবে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments