সেলটিক ফুটবল ক্লাবের দাতব্য শাখা সেলটিক ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে লন্ডনের ব্রিক্সটনে একটি নতুন ফুটবল প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল স্থানীয় গরিব পরিবার থেকে আসা মেয়েরা ও তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ম্যাচের সুযোগ তৈরি করা। প্রকল্পটি বৃষ্টির মধ্যে একটি ভেজা পিচে শুরু হলেও চারটি স্থানীয় দল অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলেছে।
ব্রিক্সটনের ভেজা মাঠে ক্রীড়া সরঞ্জাম ও কোচিং স্টাফ প্রস্তুত ছিল, যেখানে স্থানীয় চারটি দল তাদের তরুণী খেলোয়াড়দের নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। বৃষ্টির স্রোত সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ সেশন চলতে থাকে, যা অংশগ্রহণকারীদের দৃঢ়সংকল্পের প্রমাণ দেয়। এই প্রোগ্রামটি সেলটিকের লন্ডন সম্প্রসারণের অংশ, যা ২০১৩ সালে ক্লাবের ১২৫তম বার্ষিকী উদযাপনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে চালু হচ্ছে।
সেলটিকের লন্ডন উদ্যোগের মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হল হ্যাকনিতে চালু ‘ব্রেকিং ব্যারিয়ার্স’ প্রোগ্রাম, যা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী সম্প্রদায়কে ফুটবলের মাধ্যমে সমাজে একীভূত করতে সহায়তা করে। এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যে বহু পরিবারকে ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন বন্ধুত্ব ও সমর্থন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। উভয় উদ্যোগই সেলটিকের সামাজিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে উঠেছে, যেখানে ফুটবলকে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
প্রোগ্রামের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন ভ্লাদিস্লাভ কিসিল, যিনি ইউক্রেনের প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার এবং ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এটি স্থানীয় তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ, যারা আগে হয়তো ফুটবলে অংশ নিতে পারত না।” কিসিলের মতে, স্কটল্যান্ডের একটি ক্লাবের লন্ডনে এত সক্রিয় উপস্থিতি দেখে তিনি প্রথমে অবাক হয়েছিলেন, তবে ক্লাবের লন্ডন ইতিহাস জানার পর তার ধারণা পরিবর্তিত হয়।
সেলটিক ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ১৮৮৭ সালে গ্লাসগোতে হয়, যখন ব্রাদার ওয়ালফ্রিড, একজন মারিস্ট সন্ন্যাসী, আইরিশ অভিবাসীদের জন্য গরম খাবার সরবরাহের উদ্দেশ্যে একটি দাতব্য সংস্থা গঠন করেন। ওয়ালফ্রিড ১৮৯৩ সালে লন্ডনের ইস্ট এন্ডে চলে আসেন এবং বো ও বেটনাল গ্রীনের দরিদ্র শিশুদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান। তার এই মানবিক কাজের স্মরণে সেলটিক ফাউন্ডেশন লন্ডনে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।
আজ সেলটিক ফাউন্ডেশন গ্লাসগোর ঐতিহ্যকে অতিক্রম করে আয়ারল্যান্ডের স্লিগো, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহর এবং লন্ডনের বিভিন্ন পাড়া-প্রতিবেশে প্রোগ্রাম চালু করেছে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্লাবের সামাজিক মিশন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়, যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী টনি হ্যামিল্টন বলেন, “এটি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়; এটি আমাদের পরিচয়ের অংশ, আমাদের ডিএনএ-তে গাঁথা।” তিনি যোগ করেন, “ক্লাবের মূল লক্ষ্যই ছিল সমাজের দরিদ্র মানুষদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনা, আর আজও আমরা সেই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছি।” হ্যামিল্টনের এই মন্তব্য সেলটিকের দীর্ঘমেয়াদী দাতব্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ক্লাবের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই চালু রয়েছে।
গ্লাসগোতে ফাউন্ডেশন বহু বছর ধরে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে স্কুলে ফুটবল প্রশিক্ষণ, নারীদের জন্য স্বাস্থ্যের সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং দরিদ্র পরিবারকে খাবার সরবরাহের উদ্যোগ। এই সব কার্যক্রম সেলটিকের মূল মিশনকে পুনরায় নিশ্চিত করে, যেখানে ক্রীড়া কেবল একটি খেলা নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
ব্রিক্সটনে চালু হওয়া এই নতুন প্রোগ্রামটি স্থানীয় তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বিন্দু হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ সেশন, টুর্নামেন্ট এবং শিক্ষামূলক কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা কেবল ফুটবলে নয়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেলটিক ফাউন্ডেশন লন্ডনের দরিদ্র সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে এবং ফুটবলের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।



