মুলপানির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে বুধবার অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে পরাজিত করে সরাসরি কোয়ালিফিকেশন পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। টুর্নামেন্টের এই জয় দলকে শূন্যে শেষ না হয়ে বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জয় নিশ্চিত করলেই বিশ্বকাপে সরাসরি স্থান নিশ্চিত হবে; বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হয়ে এক পয়েন্ট পেলেও দলটির টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৬৫ রান ছয় উইকেটের সঙ্গে সম্পন্ন করল। ওপেনার দিলারা আক্তার প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে শূন্যে শেষ হয়, আর শারমিন আক্তার ৯ বলে ১১ রান যোগ করল। এরপর জুয়াইরিয়া ফেরদৌস এবং শোভনা মোস্তারী তৃতীয় উইকেটের জন্য ১১০ রানের স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা টার্গেট সেট করার ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
দুইজনই অর্ধশতক পার করে শীর্ষে পৌঁছালেন; জুয়াইরিয়া ৪৩ বলে ৫৬ রান স্কোর করে তিনটি চতুর্ভুজ এবং চারটি ছয় মারেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। শোভনা ৪২ বলে ৫৯ রান তৈরি করে নয়টি চতুর্ভুজ এবং একটি ছয় দিয়ে দলকে শক্তিশালী মোট স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
নিম্ন ক্রমের ব্যাটসম্যানরা উল্লেখযোগ্য রান যোগাতে পারেননি, তবে রিতু মনি শেষ ওভারে ছয় বলে দ্রুত ১৫ রান গড়িয়ে দলকে অতিরিক্ত রানের সুরক্ষা দিলেন। স্বর্ণা আক্তার চারটি, ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি ছয়টি, রাবেয়া খান পাঁচটি এবং ফাহিমা খাতুন একটি করে রান যোগ করলেও মোট স্কোরে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।
থাইল্যান্ডের পিচে শুরুরই উইকেটগুলো দ্রুত পড়ে, তবে নাথাকান চ্যান্থাম ৪৪ রান নিয়ে দলের একমাত্র বড় স্কোরার হলেন। নারুয়েমল চায়ওয়াই ৩০ রান এবং নান্নাপাত কনচারোয়েনকেট ২৯ রান যোগ করেন, তবে অন্য কোনো ব্যাটসম্যান ডাবল ডিজিটে পৌঁছাতে পারেনি। থাইল্যান্ড ২০ ওভারে ১২৬ রান ছয় উইকেটের সঙ্গে শেষ করে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়।
বোলিং দিক থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল মারুফা আক্তারকে সর্বোচ্চ উইকেটধারী হিসেবে তুলে ধরেছে, যিনি তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের রিদম নিয়ন্ত্রণে রাখেন। রিতু মনি এবং স্বর্ণা আক্তার প্রত্যেকে দুইটি করে উইকেট নেন, আর ফাহিমা খাতুন একটি উইকেটের মাধ্যমে দলকে সমর্থন করেন।
এই জয়ের পর দলটি এখন বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটি জয় নিশ্চিত করলে আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের সরাসরি কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত হবে। বাকি ম্যাচগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও এক পয়েন্টের জন্য রেইন-অ্যাব্যান্ডনড ম্যাচও দলকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দেবে। কোচ ও খেলোয়াড়রা পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তবে তা এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের এই জয় শুধুমাত্র টুর্নামেন্টে অগ্রগতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলটির প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও দক্ষতার প্রমাণ। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটি কীভাবে পারফর্ম করবে তা বিশ্বকাপের পথে তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।



