ঢাকা ক্যান্টনের আরামদায়ক আর্টি স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের কনফারেন্স রুমে ২৬-২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নবম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ল্যান্ড ফোর্সেস টকস (LFT) সমাপ্তির সঙ্গে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি উভয় পক্ষের কৌশলগত স্বার্থকে শক্তিশালী করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে।
টকসের সমাপ্তি ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) আজ প্রকাশিত প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে, যেখানে দুই দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী আলোচনায় পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ২২ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন মিলিটারি ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের লেফটেন্যান্ট কলোনেল মোহাম্মদ বদরুল হক। দলটি প্রশিক্ষণ নীতি, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা শিখতে আগ্রহী ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল চারজনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল, যার প্রধান ছিলেন ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের (USARPAC) সিকিউরিটি কোঅপারেশন ডিভিশনের মেজর মাইকেল জ্যাকব অস্টার। তিনি দলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করার দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির উন্মুক্ত ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি উভয় দেশের উচ্চস্তরের সমন্বয় ও পারস্পরিক সম্মানকে প্রকাশ করে।
আলোচনার সময় উভয় পক্ষই সামরিক সহযোগিতা, পেশাগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে। তারা ভবিষ্যতে একাধিক যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা, পাশাপাশি নতুন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে।
বিশেষত, উভয় সেনাবাহিনী যৌথ প্রশিক্ষণ শিবির, সিমুলেশন ভিত্তিক যুদ্ধ অনুশীলন এবং ডিজিটাল সিমুলেটর ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
দলগুলো পারস্পরিক কৌশলগত সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা চুক্তি ও সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, উভয় দেশই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উভয় সেনাবাহিনী একে অপরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক অস্ত্র সিস্টেমের ব্যবহার নিয়ে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। এই সহযোগিতা উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতাকে আধুনিকায়নের দিকে ত্বরান্বিত করবে।
আইএসপিআর উল্লেখ করেছে যে, পূর্বে ৮ম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ল্যান্ড ফোর্সেস টকস অক্টোবর ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে একই ধরনের সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনা শুরু হয়েছিল। নবম টকসের মাধ্যমে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ভবিষ্যতে উভয় দেশ নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণ শিবিরের পরিকল্পনা করবে, এবং পরবর্তী ল্যান্ড ফোর্সেস টকসের জন্য ২০২৭ সালের শেষের দিকে একটি নতুন তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



