ডেভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা সত্ত্বেও নিজের বক্তব্যে অটল রইলেন। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে “অসংযমী পরাশক্তি” নিয়ে সতর্কতা জানাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনকে প্রথমে স্বীকৃতি দেওয়া কানাডি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দাবি ছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে কার্নি তার ডেভোসে মন্তব্যের কিছু অংশ সংশোধন বা প্রত্যাহার করেছেন। তবে কানাডিয়ান সরকার এই বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করে, এবং কার্নি নিজেই মিডিয়ার সামনে নিশ্চিত করেন যে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো পরিবর্তন করেননি।
কার্নি টেলিফোনিক আলোচনার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছি যে ডেভোসে আমি যা বলেছি, সেটাই আমি পুনরায় বলছি এবং তা সম্পূর্ণভাবে বজায় রাখছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তার বক্তব্যের মূল বিষয়গুলোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ডেভোসে তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনকে প্রথমে স্বীকার করা কানাডি সরকারকে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, “মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে ট্রাম্পের পরিবর্তনকে আমরা প্রথম দেশ হিসেবে বুঝতে পেরেছি এবং তার অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছি।” এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়ে ওঠে, যেখানে তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেননি, তবে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের প্রভাব তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্যে তিনি কানাডার ওপর নির্ভরশীলতা তুলে ধরে বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।” তবে কানাডিয়ান সরকার এই মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে, এবং কার্নি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা, আর্কটিক নিরাপত্তা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
আলোচনার মধ্যে ইউএসএমসিএ (কানাডা-মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি) পুনর্মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কার্নি উল্লেখ করেন, “দাভোসে আমার ভাষণে স্পষ্ট করে বলেছি যে, মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে যে পরিবর্তন ট্রাম্প এনেছেন, কানাডাই প্রথম দেশ হিসেবে সেটি বুঝতে পেরেছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, হাউস অব কমন্সে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে কথা বলার সময়, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউএসএমসিএ পর্যালোচনা শুরু হবে।
কানাডিয়ান সরকার উল্লেখ করেছে, বিশ্ব এবং ওয়াশিংটন উভয়ই পরিবর্তনের মুখে রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিতে এখন কোনো স্থিতিশীলতা নেই। এই বাস্তবতা স্বীকার করে, কানাডা তার বাণিজ্যিক কৌশল পুনর্গঠন করছে, যাতে নতুন আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্টের মন্তব্যের পরেও, কার্নি স্পষ্ট করে বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টই আমাকে ফোন করে ইউএসএমসিএ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।” তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের সরাসরি সংলাপ ভবিষ্যতে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।
কানাডিয়ান সরকার ও মার্কিন সরকার উভয়েরই বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে। কার্নি উল্লেখ করেন, “বিশ্ব বদলে গেছে, ওয়াশিংটন বদলে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন স্বাভাবিক বলতে কিছুই নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে কানাডার স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, কানাডি সরকার ইউএসএমসিএ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট পার্টিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে। একই সঙ্গে, আর্কটিক নিরাপত্তা, ইউক্রেনের পরিস্থিতি এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনার বিষয়গুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এইসব বিবরণ থেকে স্পষ্ট হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা সত্ত্বেও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার স্বতন্ত্র নীতি বজায় রেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কানাডির স্বার্থ রক্ষার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।



