উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন গত মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং-এ একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারকি করে পারমাণবিক অস্ত্রকে দেশের মৌলিক অধিকার বলে পুনরায় জোর দেন। তিনি জানিয়ে বলেন, “পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের অধিকার” এবং কোনো সমঝোতা গ্রহণে রাজি নন। একই সময়ে তিনি পারমাণবিক প্রকল্পের সম্পূর্ণতা দাবি করে, দেশটি এখন নতুন পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কিমের নির্দেশে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সামরিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।
পরীক্ষার দিন কিম জং উন নিজে উপস্থিত থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিহতের লক্ষ্যে নির্মিত অস্ত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।” পরীক্ষায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানে, যা কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৫৮.৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে।
পরীক্ষার সময় কিমের সঙ্গে তার কন্যা কিম জু অ্যায়ে এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা ছিলেন। কেসিএনএ প্রকাশিত বিবরণে কিম জং উন বলেন, “যারা আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানি দেয়, এই পরীক্ষার ফল তাদের জন্য গুরুতর হুমকি ও অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার কারণ হবে।” তিনি স্বীকার করেন, উন্নত রকেট লঞ্চার তৈরি করা সহজ ছিল না, তবে এর ফলে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার সময় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঠিক বাইরে নেমে গিয়ে পড়ে। যদিও কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে জাপানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসেসের গবেষক লি হো-রাইউং এএফপিকে মন্তব্য করেন, আসন্ন পার্টি সম্মেলনে কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র নীতি সম্পর্কে বিশদ পরিকল্পনা উপস্থাপিত হবে বলে তিনি অনুমান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিমের এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
কিমের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের অগ্রগতি, পাশাপাশি পার্টি সম্মেলনের সময়সূচি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে এই উন্নয়নের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সরকার এখনও কোনো কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দেয়নি, বরং পারমাণবিক ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। কিম জং উনের এই ঘোষণার পর, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে।
পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ার্কার্স পার্টি সম্মেলন কোরিয়ার ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সম্মেলনে কী ধরনের নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।



