বুধবার দুপুরে ঢাকা শহরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহের সফর শেষ হল। সফরের সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন হজের সামগ্রিক অগ্রগতি ও রোডম্যাপের বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন।
ড. খালিদ হোসেনের মতে, হজের সব কাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষ করে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয় তীব্রভাবে কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এই বছর হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহত্তর হজ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, মন্ত্রণালয় সব হজ এজেন্সিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ দিয়েছে। এ জন্য বিশেষ তদারকি দল গঠন করে প্রতিটি এজেন্সির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত মদিনা ও মক্কা উভয় শহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রীর জন্য বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তিগুলি হজের সময়সূচি মেনে চলা এবং নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বাকি হজযাত্রীদের জন্যও একই সময়সীমার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এজেন্সিগুলিকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় যে, চুক্তি না হলে হজের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রভাবিত হতে পারে।
ড. খালিদ হোসেন সৌদি রাষ্ট্রদূতকে হজ কোটা নির্ধারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সমন্বয় ভবিষ্যতে হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হবে।
মিটিংয়ে ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম এবং যুগ্মসচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিতি মন্ত্রণালয়ের হজ প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য একত্রিত হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, হজের জন্য বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করা হজযাত্রীর নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করার অন্যতম মূল শর্ত। এই চুক্তিগুলি হজের সময় ভ্রমণ, খাবার ও চিকিৎসা সেবা সহ বিভিন্ন সেবা প্যাকেজের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে হজ এজেন্সিগুলোর কাজের গতি বাড়াতে ডিজিটাল সিস্টেম প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে। এতে চুক্তি স্বাক্ষর, পেমেন্ট ও রেকর্ড সংরক্ষণ সহজ হবে এবং সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার হজের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে, হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবা মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে জোর দেয়া হবে।
সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর সফরের সময় মন্ত্রণালয়ের হজ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রশংসা করেন এবং দু’দেশের হজ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে হজের নিরাপত্তা ও সুবিধা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।
হজের রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশ সরকারের হজ নীতি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সকল হজযাত্রীর জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু হজ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
অবশেষে, ড. খালিদ হোসেন সব হজ এজেন্সিকে আহ্বান জানান যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করে হজযাত্রীর নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো হজের সামগ্রিক সাফল্য নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।



