লাভ ফিল্মস ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তার নতুন থ্রিলার‑মিস্ট্রি ‘ভাদ ২’র ট্রেলার প্রকাশ করেছে। ছবিতে সঞ্জয় মিশ্রা ও নীনা গুপ্তারা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এবং জসপাল সিংহ সান্ধু লিখে পরিচালনা করছেন। ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
‘ভাদ ২’কে একটি স্তরযুক্ত থ্রিলার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে গল্পের মূল গতি রহস্যময় রূপে বজায় রাখা হয়েছে। ট্রেলারে দেখা যায়, কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন মোড় ও অপ্রত্যাশিত সংঘাতের ইঙ্গিত রয়েছে, যা দর্শকের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। চলচ্চিত্রের শিরোনামই ইঙ্গিত দেয় যে পূর্বের ‘ভাদ’ সিরিজের ধারাবাহিকতা, তবে নতুন গল্পের স্বাদ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ট্রেলারের প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই গা ছোঁয়া সঙ্গীত ও তীব্র ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরো চলচ্চিত্রের টোন নির্ধারণ করে। অন্ধকারময় রঙের প্যালেট এবং তীক্ষ্ণ ক্যামেরা শটগুলো গল্পের অশান্তি ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। দৃশ্যগুলোতে সূক্ষ্মভাবে গোপনীয়তা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে, যা দর্শককে পর্দার দিকে টেনে আনে।
সঞ্জয় মিশ্রা এবং নীনা গুপ্তারার অভিনয়কে ট্রেলারে গম্ভীরতা ও স্বাভাবিকতার মিশ্রণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দুজনের চরিত্রে গভীর আবেগীয় সংঘাতের চিত্র দেখা যায়, যা ছবির মূল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের পারফরম্যান্সে দেখা যায়, চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা, যা পুরো গল্পকে আরও বাস্তবিক করে তুলেছে।
লেখক-পরিচালক জসপাল সিংহ সান্ধু ট্রেলারে গল্পের গঠনকে জটিল ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি পূর্বের ‘ভাদ’ সিরিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নতুন কাহিনীর কাঠামো গড়ে তুলেছেন, যেখানে প্রতিটি দৃশ্যই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। তার দৃষ্টিকোণ থেকে থ্রিলার ও মিস্ট্রির সমন্বয় একটি তাজা দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে।
লাভ ফিল্মসের উৎপাদন দল ট্রেলারের প্রচারকে ব্যাপকভাবে পরিচালনা করেছে, যাতে দর্শকরা ছবির মূল আকর্ষণ দ্রুত বুঝতে পারে। সামাজিক মিডিয়া ও বিনোদন সংবাদ সাইটে ট্রেলার শেয়ার করা হয়েছে, ফলে দ্রুতই ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রচার কৌশলটি চলচ্চিত্রের মুক্তির পূর্বে আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
ট্রেলারে প্রকাশিত দৃশ্যগুলোতে শহরের অন্ধকার গলি, পুরনো ভবনের ভেতরের ছায়া এবং তীব্র সাউন্ড এফেক্টের সমন্বয় দেখা যায়। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো গল্পের গোপনীয়তা ও অশান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। পাশাপাশি, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও এডিটিং স্টাইলের মাধ্যমে উত্তেজনা বজায় রাখা হয়েছে।
দর্শকরা ট্রেলারে দেখা কিছু সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রের মানসিক অবস্থা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত পেয়েছেন। যদিও পুরো কাহিনীর গূঢ়তা এখনও অমীমাংসিত, তবে ট্রেলারটি যথেষ্ট তথ্য প্রদান করেছে যাতে দর্শকের কল্পনা কাজ করে। এই ধরণের টিজার দর্শকের মধ্যে আলোচনার স্রোত তৈরি করেছে।
‘ভাদ ২’কে একটি তাজা গল্পের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পূর্বের অংশের সঙ্গে সরাসরি তুলনা না করেও নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখে। ট্রেলারে দেখা যায়, গল্পের কেন্দ্রে মানবিক দ্বন্দ্ব ও নৈতিক প্রশ্নের প্রতিফলন রয়েছে। এই দিকটি চলচ্চিত্রকে শুধুমাত্র রোমাঞ্চকর নয়, বরং চিন্তাশীলও করে তুলেছে।
প্রকাশের সময়ে, চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখ বা অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে দর্শকরা ছবির মূল সুর ও থিম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে, যা চলচ্চিত্রের প্রচারকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিকভাবে, ‘ভাদ ২’ ট্রেলারটি থ্রিলার প্রেমিকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাবনা হিসেবে কাজ করছে। গম্ভীর অভিনয়, তীব্র ভিজ্যুয়াল এবং রহস্যময় গল্পের সংমিশ্রণ দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রের পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণে কী ধরনের মোড় আসবে তা এখনো অজানা, তবে ট্রেলারই ইতিমধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
এই ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, শিল্পের বিশ্লেষক ও ভক্তরা ছবির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক রিভিউ নেই, তবু ট্রেলার গুণগত মান ও সৃজনশীল দিকগুলোকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ‘ভাদ ২’ এর আসন্ন মুক্তি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকবে, এবং দর্শকরা পর্দায় কী ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন তা নিয়ে আগ্রহী।



