উত্তর-পশ্চিম চীনের নিংসিয়াহুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পিংলুয়ো কাউন্টিতে দশ দিনের এক নবজাতক ভেড়া তার অস্বাভাবিক আচরণে স্থানীয় বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভেড়াটির নাম ইয়াংরৌচুয়ান, যার অর্থ ‘ভেড়ার কাবাব’, এবং এটি স্থানীয় কৃষক জিনের পালনে রয়েছে। ভেড়াটি যখন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে আসে, তখন হঠাৎ মৃত ভান করে, আর শিশুর উপস্থিতিতে তীব্রভাবে দৌড়ে বেড়ায়—এই দ্বৈত পারফরম্যান্সই লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইয়াংরৌচুয়ানের এই অভিনয়মূলক আচরণ প্রথমবারের মতো স্থানীয় বাজারে দেখা যায়, যেখানে ক্রেতারা সাধারণত নবজাতক ভেড়া কিনতে আসেন। জিন বাজারে চারটি নবজাতক ভেড়া নিয়ে গিয়েছিলেন; বাকি তিনটি সাধারণ দামের ভিত্তিতে প্রতি টুকরা ৪২০ ইউয়ান (প্রায় ৬০ ডলার) বিক্রি হয়। তবে ইয়াংরৌচুয়ান প্রাপ্তবয়স্কের স্পর্শে মৃত ভান করার ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা তাকে অসুস্থ ভেবে দূরে সরে যায়।
বাজারে উপস্থিত ক্রেতারা যখন ভেড়াটির অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেন, তখন তারা প্রথমে সন্দেহের মুখে পড়েন। কিছু ক্রেতা ভেড়াটিকে রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করে বিক্রয় থেকে সরে যান, আর অন্যরা শিশুর সঙ্গে খেলতে গিয়ে ভেড়াটির চঞ্চল দৌড় দেখার পর মুগ্ধ হয়ে যায়। এই দ্বৈত প্রতিক্রিয়া ভেড়াটিকে স্থানীয় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করে এবং শেষ পর্যন্ত তার মূল্য ২৩ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৩৩,০০০ ডলার) পর্যন্ত উঠে আসে।
জিনের মতে, ইয়াংরৌচুয়ানের এই অভিনয়শৈলী স্থানীয় কৃষি পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর একটি নতুন উপায় হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভেড়াটির অনন্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পিংলুয়ো অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের প্রচার সম্ভব, যা পর্যটক ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করবে। এই ধারণা স্থানীয় সরকার ও কৃষক সমিতির দৃষ্টিতে ইতিবাচক সাড়া পায়, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জের মুখে।
নিংসিয়াহুই অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্য সমৃদ্ধ; গম, জোয়ার মতো শস্যের পাশাপাশি ভেড়া পালনও ঐতিহ্যবাহী জীবিকার অংশ। ইয়াংরৌচুয়ানের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে আধুনিক বিনোদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব, যা স্থানীয় সংস্কৃতির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। এছাড়া, ভেড়াটির ‘মৃত ভান’ ও ‘চঞ্চল দৌড়’ দুটোই দর্শকদের মধ্যে হাসি ও বিস্ময় সৃষ্টি করে, ফলে বাজারে বিক্রয় বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক শেয়ার হয়।
বাজারে এই ধরনের প্রাণীর পারফরম্যান্সের চাহিদা বাড়তে থাকলে, স্থানীয় কৃষকরা ভবিষ্যতে আরও অনন্য প্রাণী প্রশিক্ষণ বা প্রদর্শনী পরিকল্পনা করতে পারেন। জিন ইতিমধ্যে স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মশালা আয়োজনের কথা ভাবছেন, যেখানে তারা প্রাণীর আচরণ বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল প্রদর্শনের পদ্ধতি শিখতে পারবে। এ ধরনের উদ্যোগ কেবল কৃষকের আয় বাড়াবে না, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি ও প্রাণী পালন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
ইয়াংরৌচুয়ানের গল্প স্থানীয় সংবাদপত্রে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে, নিংসিয়াহুইয়ের পর্যটন সংস্থা এই ঘটনাকে ‘প্রাণী পারফরম্যান্স ট্যুর’ হিসেবে প্রচার করতে প্রস্তুত। তারা পরিকল্পনা করছে যে, ভেড়াটির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পিংলুয়ো অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে একত্রিত করে একধরনের থিম্যাটিক ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি করা হবে। এই প্যাকেজের লক্ষ্য হবে শহুরে পর্যটকদেরকে গ্রামীণ জীবনের স্বাদ ও আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
সারসংক্ষেপে, দশ দিনের একটি নবজাতক ভেড়া তার অনন্য ‘মৃত ভান’ ও ‘চঞ্চল দৌড়’ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে বিশাল মূল্য অর্জন করেছে এবং কৃষি, পর্যটন ও সংস্কৃতির সংযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই ঘটনা দেখায় যে, সৃজনশীলতা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সমন্বয় যদি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়, তবে তা স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।



