মেটা সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের জন্য পৃথক প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালু করার ইচ্ছা জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা বর্তমান ‘মেটা ভেরিফায়েড’ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নয় এবং ব্যবহারকারীর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে পারে।
প্রস্তাবিত সাবস্ক্রিপশনটি সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য সীমিত কিছু বিশেষ ফিচার অন্তর্ভুক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞাপন‑মুক্ত অভিজ্ঞতা, অগ্রাধিকার গ্রাহক সহায়তা এবং অতিরিক্ত স্টোরেজের মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট সুবিধার তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
মেটা এই পদক্ষেপকে সামাজিক মিডিয়ার ব্যবসায়িক কাঠামোতে নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সাবস্ক্রিপশন মডেল যোগ করার মাধ্যমে আয়ের বৈচিত্র্য আনা লক্ষ্য। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন চালুর পর ডেটা গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তীব্রতা পেয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীরা উদ্বিগ্ন যে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় মেটা জানিয়েছে যে, ডেটা সুরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না।
মেটা স্পষ্ট করে বলেছে যে, নতুন প্রিমিয়াম পরিকল্পনা ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি বা সংরক্ষণ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। বর্তমান গোপনীয়তা নীতি বজায় থাকবে এবং ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত অনুমতি দিতে হবে না।
সাবস্ক্রিপশনের জন্য ব্যবহারকারীর আগ্রহ কতটা হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, বিজ্ঞাপন‑মুক্ত পরিবেশের জন্য কিছু ব্যবহারকারী অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে ইচ্ছুক হতে পারেন, তবে বৃহৎ সংখ্যক ব্যবহারকারী এই ধরনের পেমেন্ট মডেল গ্রহণে দ্বিধা করতে পারেন।
এই উদ্যোগের ফলে সামাজিক মিডিয়ার আয়ের কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিজ্ঞাপন আয়ের পাশাপাশি সাবস্ক্রিপশন আয় যোগ হলে মেটার আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিশ্চিত করার দিকেও এটি কাজ করবে।
স্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং থিংক‑ট্যাঙ্কগুলোও এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (বিআইআইসিটি) উল্লেখ করেছে যে, সাবস্ক্রিপশন মডেল ব্যবহারকারীর পছন্দের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এবং বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার উদ্ভব ঘটাতে পারে।
ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে পারে, তবে তা মূল্য‑সাপেক্ষ হওয়ায় সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে সীমিত আর্থিক সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যবহারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপন‑ভিত্তিক মডেলই প্রধান বিকল্প রয়ে যাবে।
বিশ্বব্যাপী অন্যান্য সামাজিক নেটওয়ার্কও একই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। টুইটার (এখন এক্স) এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ইতিমধ্যে প্রিমিয়াম সেবা চালু করেছে, যা মেটার জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি করেছে। তবে মেটা এখনও তার নিজস্ব ব্র্যান্ড ও ব্যবহারকারী ভিত্তি বিবেচনা করে আলাদা কৌশল গড়ে তুলছে।
সারসংক্ষেপে, মেটার এই নতুন পরিকল্পনা সামাজিক মিডিয়ার ব্যবসায়িক মডেলকে পুনর্গঠন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা, অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান এবং আয় বৈচিত্র্য করার লক্ষ্য নিয়ে এই সাবস্ক্রিপশন সেবা শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে। ভবিষ্যতে এটি কীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবহারকারীর পেমেন্ট ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।



