বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ আর্চনা পুরণ সিংহ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তিনি অভিনেতা পারমীত সেথির সঙ্গে ১৯৯২ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও প্রায় চার বছর পর্যন্ত এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করেন। তিনি এই গোপনীয়তার মূল কারণ হিসেবে শিল্পের ঐতিহাসিক প্রবণতা উল্লেখ করেছেন, যেখানে বিবাহিত নারী অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ধরা হতো। এই প্রকাশের ফলে পুরনো সময়ের লিঙ্গভিত্তিক বাধা সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে।
আর্চনা পুরণ সিংহ বলিউডের কয়েকটি ক্লাসিক ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে টেলিভিশনে নিজস্ব উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের প্রিয় হয়ে ওঠেন। তার ক্যারিয়ার দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকে, তবে ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি যখন পারমীত সেথির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন শিল্পের পরিবেশ তাকে গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাধ্য করে।
১৯৯২ সালে আর্চনা ও পারমীতের বিয়ে হয়, তবে তা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তটি কোনো একক ঘটনার ফল নয়; বরং তা সময়ের সামাজিক ও পেশাগত প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। বিয়ের পরপরই আর্চনা তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যভাবে বিবাহিত হওয়া তাকে নতুন প্রকল্প থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
সেই সময়ের বলিউডে বিবাহিত নারী অভিনেত্রীর জন্য কাজের সুযোগ কমে যাওয়া একটি স্বীকৃত প্রবণতা ছিল। প্রযোজক ও পরিচালকরা প্রায়শই বিশ্বাস করতেন যে বিবাহিত নারী দর্শকের কাছে কম আকর্ষণীয় হবে এবং তার স্ক্রিন উপস্থিতি গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ধরণের ধারণা আর্চনা-কে তার বিয়ের তথ্য গোপন রাখতে প্রেরণা দেয়।
আর্চনা এই প্রবণতাকে “অর্থহীন প্রবণতা” বলে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, সেই সময়ের শিল্পের মানসিকতা বিবাহকে ক্যারিয়ারের বাধা হিসেবে দেখত, যা আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই নীতির ফলে অনেক নারী শিল্পীকে গোপনীয়তা বজায় রাখতে হয়েছিল।
বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারমীতের বয়সের পার্থক্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। পারমীত আর্চনার চেয়ে ছোট হওয়ায় উভয় পরিবারের মধ্যে কিছুটা আপত্তি দেখা দেয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্কটি সহজে গ্রহণযোগ্য না হয়। এই পারিবারিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোও গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করেছে।
বছরের পর বছর গড়ে, দম্পতি ধীরে ধীরে তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে আনার পথে অগ্রসর হন। বর্তমানে তারা একটি ইউটিউব পরিবার চ্যানেল পরিচালনা করেন, যেখানে তারা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো মুহূর্ত শেয়ার করেন এবং দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলেন। এই চ্যানেলটি তাদের গোপনীয়তা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করেছে।
সম্প্রতি তারা একটি নতুন সিরিজের সূচনা করেছেন, যেখানে দম্পতি তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এই সিরিজটি দর্শকদেরকে তাদের বিবাহের পেছনের গল্প, চ্যালেঞ্জ এবং সমঝোতার মুহূর্তগুলো জানার সুযোগ দেয়। সিরিজের মাধ্যমে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা শেয়ার করে অন্য দম্পতিদের জন্য প্রেরণার উৎস হতে চান।
আর্চনার এই উন্মোচন শিল্পের লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে পুনরায় আলোচনা উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে পুরনো প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মুখোমুখি হওয়া বাধা ও চাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান শিল্পে সমতা ও সুযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়টি সামাজিক মিডিয়া ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে নারীর ভূমিকা ও সুযোগের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে এসেছে। আজকের দিনেও যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবে আর্চনা ও পারমীতের মতো দম্পতির গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়। তাদের অভিজ্ঞতা শিল্পের পুরনো মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সমতা ও স্বচ্ছতার পথে অগ্রসর হওয়ার উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।



