সকাল সাড়ে নয়টায় চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে একটি ট্রাকের ধাক্কা ঘটায়। মাদ্রাসার পথে হাত ধরাধরি করে চলছিল তিন বোন, যাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী খাদিজা মাশমুম, ১৩ বছর বয়সী তেফিয়া তাবাসসুম এবং ১১ বছর বয়সী উম্মে হাবিবা।
মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দ্রুতগতিতে চলছিল একটি বেপরোয়া ট্রাক, যা হঠাৎ করে পাশের সিএনজি চালিত অটোরিকশার দিকে ঝুঁকে যায়। অটোরিকশাটি ধাক্কা খেয়ে পাশের পুকুরে পড়ে, আর ট্রাকটি তার গতি বজায় রেখে মাদ্রাসার ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিন বোন ও কয়েকজন পথচারীর দিকে এগিয়ে যায়।
ট্রাকের গতি হ্রাস না হওয়ায় তা সরাসরি বোনদের ওপর চাপা দেয়। খাদিজা মাশমুমের মাথায় আঘাত লেগে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয়। তেফিয়া তাবাসসুম ও উম্মে হাবিবা দুজনেই গুরুতর আঘাত পেয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। একই সময়ে অটোরিকশার ধাক্কায় পড়ে পুকুরে গড়িয়ে পড়া ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ পথচারীও আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
ট্রাকের ধাক্কা থেকে বাঁচতে না পারা আরও পাঁচজন ব্যক্তি আহত হয়। তাদের মধ্যে ৪০ বছর বয়সী আবুল খায়ের এবং দুইজন অজানা পরিচয়ের লোক অন্তর্ভুক্ত। আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। গৃহীত তথ্য অনুযায়ী ট্রাকের চালক গতি সীমা অতিক্রম করে দ্রুতগতি বজায় রেখেছিলেন, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার পর মাদ্রাসার শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ একটি ভয়াবহ শব্দ শোনা যায় এবং তিনি পিছনে ফিরে দেখেন অটোরিকশাটি পুকুরে গড়িয়ে পড়েছে। তার পরেই ট্রাকটি বোনদের ও পথচারীদের ওপর চাপা দেয়।
পুলিশের মতে, ট্রাকের চালকের গতি ও অটোরিকশার অপ্রত্যাশিত অবস্থান দুটোই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে চালকের বিরুদ্ধে গতি সীমা অতিক্রমের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার শিকার পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, আহতদের চিকিৎসা খরচের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে। মৃত বোনের পরিবারকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে হাইওয়ে পার্শ্ববর্তী পায়ে চলা পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত সাইনেজ ও গতি সীমা নির্দেশক চিহ্ন স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, সিএনজি অটোরিকশার চালকদের জন্য নিরাপদ পার্কিং ও গতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা জোরদার করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে জমায়েত হয়ে শোক প্রকাশ করেন। মৃত বোনের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে, যেখানে নাছির উদ্দিনের মা ও বাবা নিঃশ্বাসে শ্বাস নেয়া বন্ধ করে গৃহে শোক মেনে চলছেন।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



