মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না। এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার ইঙ্গিত দেয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সাক্ষাৎকারের সময় ক্রিস্টেনসেন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং মিডিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এড়িয়ে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিইসি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত briefing প্রদান করেছেন, যার মধ্যে ভোটার তালিকা আপডেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত দিক অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি দেশের নির্বাচনী সংস্থার প্রস্তুতিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
রাষ্ট্রদূত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করার কোনো ইচ্ছা নেই” এবং ফলাফল নির্ধারণের চূড়ান্ত অধিকার জনগণের হাতে থাকবে। তিনি যুক্তি দেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতাকে সম্মান করবে।
ক্রিস্টেনসেন এছাড়াও উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গভীর আগ্রহী এবং ফলাফল প্রকাশের পর তা পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি কোনো পূর্বাভাস বা বিশ্লেষণ প্রদান করেননি, শুধুমাত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনগণের সিদ্ধান্তের স্বীকৃতি প্রকাশ করেছেন।
এই সাক্ষাৎকারের আগে, বিকেল ১১টার পর ক্রিস্টেনসেন আবার ইসি ভবনে ফিরে এসে সিইসির সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যান। এই পুনরায় সাক্ষাৎ নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে গভীরতর আলোচনা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের শর্তাবলী এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। উভয় পক্ষই নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীরব নীতি, পূর্বে প্রকাশিত কোনো সমর্থন বা হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত না দিয়ে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গিকে পুনর্ব্যক্ত করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক যে বৃহৎ শক্তিগুলি নির্বাচনী সময়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, যাতে দেশীয় স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় থাকে।
নির্বাচন কমিশন এই সময়ে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, ভোটকেন্দ্রের স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়সহ বিস্তৃত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সিইসি নাসির উদ্দিনের মতে, সকল প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সময়মতো সম্পন্ন হবে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া মসৃণভাবে পরিচালিত হয়। কমিশন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানিয়ে তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের নীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী নির্বাচনী নিয়ম মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন নির্বাচন কমিশন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করবে।
নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত তারিখে ভোটদান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে, এবং পূর্বে ঘোষিত হয়েছে যে স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলো ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপস্থিত থাকবে। এই পর্যবেক্ষক দলগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিএনএস এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা সংস্থা অন্তর্ভুক্ত। তাদের উপস্থিতি ফলাফলকে বৈধতা প্রদান এবং সম্ভাব্য বিরোধ মিটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।



