বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিভাগে সফর করবেন, যা দলের জন্য ২২ বছর পরের প্রথম বৃহৎ সমাবেশের সূচনা। ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জনসভা রাইজিং ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিকল্পিত এবং স্থানীয় নেতারা ও সাধারণ জনগণকে একত্রিত করার লক্ষ্য রাখে।
রাজশাহী বিভাগের তিনটি জেলায় থেকে নেতাকর্মী, পাশাপাশি ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিরা এই সমাবেশে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা ইতিমধ্যে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের স্বাগত প্রস্তুতিতে তৎপর।
দলীয় উচ্চপদস্থ নেতারা মঞ্চের গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 현장 পরিদর্শন করেছেন এবং সমাবেশের সফলতা নিশ্চিত করতে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণের কথা পুনরায় জোর দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপস্থিতির সংখ্যা তিন লক্ষের বেশি পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগের নেতারা জানান, তিন জেলার নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন এবং স্থানীয় মানুষজন তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। সমাবেশের তারিখের ঘোষণা দেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাবে।
বিএনপি রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত উল্লেখ করেন, নটোর, রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের এমপি প্রার্থী ও নেতাকর্মীদেরকে এই সফরের তথ্য জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তিনি ‘ধানের শীষের’ প্রার্থীর জন্য এবং জনগণের স্বার্থে সফর করছেন এবং এই সফরের ফলে দলের ভোটসংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের জনসভা বৃহৎ জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে এই প্রত্যাশা দলের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ বছরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
এই সমাবেশের প্রস্তুতি সভা রাজশাহী জেলার ছয়টি আসন এবং পার্শ্ববর্তী তিনটি জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নিরাপত্তা, সাউন্ড সিস্টেম, ভেন্যু সাজসজ্জা এবং জনসাধারণের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী সমাবেশের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ ইউনিট এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য রোডব্লক স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি দলের উচ্চপদস্থ নেতারা সমাবেশের সময় তারেক রহমানের বক্তব্যে ভোটাভুটি সংক্রান্ত মূল নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন, যা নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি গঠন করবে।
এই সফর ২০০৩ সালে একই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ সফরের পর প্রথমবারের মতো বৃহৎ জনসমাবেশের আকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দশকের পর ফিরে আসা এই সফর দলীয় সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমাবেশের ফলাফল নির্বাচনী গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমাবেশের পরবর্তী ধাপে নির্বাচনী ক্যান্ডিডেটদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হবে।



