মার্কো রুবিও, মার্কিন সরকারের সিনেটর, বুধবার সেনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে ভেনেজুয়েলা সরকারের বর্তমান শাসক ডেলসি রড্রিগেজকে সতর্ক করার প্রস্তুতি নেন। তিনি জানাতে চান, যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতোই তারও একই ভাগ্য হতে পারে। এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তেলসম্পদ সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা নিয়ে কূটনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে।
রুবিওর প্রস্তুতিপত্রে উল্লেখ আছে, ডেলসি রড্রিগেজ, যিনি পূর্বে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং এখন কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট, মাদুরোর শেষের পরিণতি সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবগত। তিনি যুক্তি দেন, রড্রিগেজের স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে, সহযোগিতা সহজ হবে।
রুবিও আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় স্পষ্ট হয়েছে, যদি কূটনৈতিক উপায় ব্যর্থ হয়, তবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সামরিক জোর প্রয়োগ করা হবে। এই মন্তব্যটি রুবিওর প্রস্তুতিপত্রে সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগের পর রুবিও কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন, যেখানে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের আইনগত সীমা অতিক্রম এবং আইনসভা সদস্যদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলছিল। রুবিওর উপস্থিতি এই বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
১ জানুয়ারি ৩ তারিখে মার্কিন কমান্ডো দল ক্যারাকাসে প্রবেশ করে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত দম্পতিকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার করা হয়, যদিও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের দল মাদক পাচার অভিযোগে দোষী না স্বীকার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়া তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভেনেজুয়েলা সরকারের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রুবিও তার সাক্ষ্যে জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান দুইজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করার ফলাফল, এবং মাদুরোকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধানের বদলে অভিযুক্ত মাদক পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, এই পদক্ষেপে কোনো আমেরিকান প্রাণহানি হয়নি।
রুবিও আরও উল্লেখ করেন, এই অপারেশন কোনো দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দখল সৃষ্টি করেনি এবং ইতিহাসে এ ধরনের কম খরচে বড় ফলাফল অর্জনের উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়। তিনি এই অর্জনকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ১০০ এর বেশি ব্যক্তি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলীয় ও কিউবান নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত, যারা মাদুরোকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশনের মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে রড্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করতে বলা হয়েছে। মাদুরোকে অপসারণের পর ট্রাম্প রড্রিগেজের ওপর চাপ বাড়িয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন, এবং ডেমোক্র্যাটিক বিরোধী গোষ্ঠীর নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাডোকে ‘খুবই সুন্দর নারী’ বলে সমালোচনা করেন, যাকে তিনি ‘সম্মানজনক’ বলে গণ্য করেন না।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের সরাসরি হুমকি ও চাপের ফলে রড্রিগেজের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে, এবং তেল চুক্তি ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য আরও কঠোর শর্ত আরোপিত হতে পারে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়তে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, রুবিওর সাক্ষ্য ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ভেনেজুয়েলা সরকারের উপর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত। ভবিষ্যতে রড্রিগেজের পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিক নির্ধারণ করবে।



