স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানানো তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সচিবালয়ে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের অভিযোগে তিনজনকে ভিন্ন‑ভিন্ন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরাধটি ২৫ জানুয়ারি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার স্বাক্ষর জাল করে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।
বাংলাদেশ সচিবালয়কে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। সরকার এই সংবেদনশীল সময়ে সচিবালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ জন্য বাংলাদেশ সরকার “বাংলাদেশ সচিবালয় প্রবেশ নীতিমালা–২০২৫” অনুসরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে। টিমটি নিয়মিতভাবে নীতিমালার প্রয়োগ যাচাই করে এবং কোনো লঙ্ঘন সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
মনে করা হয়, ২৫ জানুয়ারি টিমটি দুইজন অননুমোদিত প্রবেশকারীকে আটক করে। আটকরা স্বাক্ষর জাল করে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যা সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে মো. আলিফ শরীফকে অবৈধ পাস তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি অন্যান্য ব্যক্তিদেরকে একই ধরনের পাস তৈরিতে সহায়তা করছিলেন বলে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। মো. আলিফ শরীফকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং সহ-অপরাধী মো. আশিককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গুপ্তচর তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মী মো. দিদারুল আলমকেও অপরাধে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারও এক মাসের কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম অননুমোদিত গাড়ি প্রবেশের বিষয়েও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। স্টিকারবিহীন অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ স্টিকারযুক্ত গাড়িগুলি প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।
টিমের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত প্রবেশের প্রচেষ্টা ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরাধের তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনগত প্রক্রিয়ার পূর্ণতা পর্যন্ত সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক কাঠামোর অখণ্ডতা বজায় থাকে।



