বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৭ জানুয়ারি রাত ১টা ২২ মিনিটে ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পোস্টে তিনি থাকুরগাঁ অঞ্চলে বিএনপি শাসনকালে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে উল্লেখ করে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির দিকে ইঙ্গিত দেন।
মির্জা ফখরুল জানান, জন্মদিনে মানুষের ভালবাসা ও সমর্থন তাকে মুগ্ধ করেছে এবং তিনি এই মুহূর্তে গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করছেন। তিনি নিজের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার সময়ের স্বপ্নের কথা স্মরণ করে বলেন, সমাজে পরিবর্তন আনার ইচ্ছা তার দু’চোখে জ্বলজ্বল করত।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর প্রায় ষাট বছর কেটে গেছে, আর সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার সংকল্প নিয়েছেন। থাকুরগাঁয়ের উন্নয়নকে তিনি নিজের রাজনৈতিক দায়িত্বের অন্যতম সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
বিএনপি শাসনকালে থাকুরগাঁতে নতুন গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এই অবকাঠামো গড়ে ওঠা গ্রামগুলোকে একে অপরের সঙ্গে এবং মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্চ ২০০৫-এ বারেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে ১,৩৩৭টি টিউবওয়েলকে আধুনিক ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য সেচের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে।
গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিস্তারের ফলে কৃষি, ব্যবসা ও গৃহস্থালী জীবনে নতুন গতিপ্রবাহ দেখা গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলেছে এবং স্থানীয় শিল্পখাতের বিকাশে সহায়তা করেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় শিক্ষার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপি শাসনকালে থাকুরগাঁয়ের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে শিক্ষক সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় বাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়।
গভীর নলকূপের সংখ্যা ১,২৬০টি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা সেচ ব্যবস্থার এক বিপ্লব ঘটায়। এই নলকূপগুলো কৃষি উৎপাদনকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করেছে।
মির্জা ফখরুল ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী কৃষি নীতির প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
কৃষক সমবায় গঠন ও আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। এসব উদ্যোগের ফলে কৃষকরা উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ তিনি ৭৮ বছর বয়সী এবং গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন। তিনি জানিয়েছেন, একাধিকবার জেলখানায় বসতে হয়েছে, মোট ১১ বার। তার মতে, তার কাজ ও ফলাফল আল্লাহরই জানার বিষয়, আর জনগণই তার মূল ভিত্তি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নীতিগত প্রশ্নে কখনো আপস করেননি এবং আল্লাহর সাহায্যে তিনি সঠিক পথে চলতে সচেষ্ট। তার এই বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।
বিএনপি এই ধরনের বিবৃতি ব্যবহার করে তার শাসনকালে অর্জিত উন্নয়নের রেকর্ডকে পুনরায় তুলে ধরতে চায়, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিরোধী দলগুলো এই দাবিগুলোর বাস্তবতা ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং বিকল্প উন্নয়ন মডেল প্রস্তাব করতে পারে।
মির্জা ফখরুলের এই জন্মদিনের বার্তা থাকুরগাঁয়ের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য সমন্বিত নীতি ও বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



