বেঙ্গালুরু ভিত্তিক লজিস্টিক্স কোম্পানি শ্যাডোফ্যাক্স ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে। প্রাথমিক পাবলিক অফার (আইপিও) এর মাধ্যমে প্রায় ১৯.০৭ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ২০৮ মিলিয়ন ডলার) সংগ্রহ করা হয়। অফার মূল্য ১১৮ থেকে ১২৪ রুপি পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল এবং নতুন শেয়ার ইস্যু ও বিদ্যমান শেয়ারধারীদের বিক্রয়ের সমন্বয়ে গঠিত ছিল, যা প্রায় তিন গুণের বেশি সাবস্ক্রিপশন পেয়েছে।
আইপিওয়ের প্রথম দিন শেয়ারের দাম অফার মূল্যের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে ১১২.৬০ রুপিতে নেমে আসে। এই মূল্য হ্রাসের ফলে শ্যাডোফ্যাক্সের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬৪.৭ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৭০৭ মিলিয়ন ডলার) নির্ধারিত হয়, যা কোম্পানির ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রায় ৬০ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার) প্রাইভেট মূল্যায়নের সঙ্গে সমান স্তরে রয়েছে।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্যাডোফ্যাক্স তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিক্স প্রদানকারী হিসেবে কাজ করে, ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস, কুইক-কমার্স এবং ভোক্তা ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর জন্য শেষ-মাইল ও শহরের মধ্যে ডেলিভারি পরিচালনা করে। কোম্পানির সেবা দ্রুত ডেলিভারির চাহিদা মেটাতে এবং বৃহৎ শহুরে এলাকায় লজিস্টিক্স নেটওয়ার্ক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শ্যাডোফ্যাক্সের মোট আয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই কয়েকটি বড় গ্রাহকের কাছ থেকে আসে। প্রধান ক্লায়েন্টদের মধ্যে ফ্লিপকার্ট, মীশো, জেপ্টো এবং জোমাটো উল্লেখযোগ্য, যারা একসঙ্গে কোম্পানির আয়ের অধিকাংশ অংশ সরবরাহ করে। এই ধরনের গ্রাহক কেন্দ্রীকরণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ কোনো এক বা দুইটি বড় ক্লায়েন্টের চাহিদা হ্রাস হলে আয় প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে।
শেয়ারহোল্ডার কাঠামোতে ফ্লিপকার্ট, টিপিজি নিউকুয়েস্ট, কোয়ালকম এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কর্পোরেশন (আইএফসি) উল্লেখযোগ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। আইপিওতে অতিরিক্তভাবে এয়েট রোডস ভেঞ্চারস, নোকিয়া গ্রোথ পার্টনার্স, মিরা অ্যাসেট এবং কোয়ালকমের শেয়ারও বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক বংশাল ও বৈভব খান্দেলওয়াল এই বিক্রয়ে অংশগ্রহণ করেননি, ফলে তাদের শেয়ারহোল্ডিং অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে।
শ্যাডোফ্যাক্সের তালিকাভুক্তি ঘটে যখন ভারতের ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স সেক্টর দ্রুত সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। ইন্টারনেট প্রবেশের হার বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং দ্রুত ডেলিভারির চাহিদা এই সেক্টরের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। একই দিনে ডেলিভারি সময় কমাতে প্ল্যাটফর্মগুলো তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিক্স সেবা ব্যবহার করে, যা শ্যাডোফ্যাক্সের মতো কোম্পানিগুলোর জন্য বাজারের সুযোগ বাড়িয়ে দেয়।
তবে শেয়ার মূল্যের প্রাথমিক পতন এবং গ্রাহক কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে শ্যাডোফ্যাক্সের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স নির্ভর করবে তার ক্লায়েন্ট পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ এবং সেবা গুণগত মানের ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর। যদি কোম্পানি নতুন ই-কমার্স খেলোয়াড় বা রিটেইল চেইনের সঙ্গে চুক্তি বাড়াতে পারে, তবে আয় ভিত্তি শক্তিশালী হবে এবং শেয়ার মূল্যের পুনরুদ্ধার সম্ভব।
অন্যদিকে, লজিস্টিক্স শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ত্রুটিমুক্ত ডেলিভারি চেইন গঠনের জন্য প্রযুক্তি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা শ্যাডোফ্যাক্সের ব্যালান্স শিটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিবেশে সুদের হার বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি রেটের ওঠানামা ক্যাপিটাল খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা কোম্পানির লাভজনকতা প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শ্যাডোফ্যাক্সের আইপিও বাজারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার মূল্যের সাময়িক হ্রাস এবং গ্রাহক কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি স্পষ্ট হয়েছে। তবে ই-কমার্স ও দ্রুত ডেলিভারির ধারাবাহিক বৃদ্ধি লজিস্টিক্স সেবার চাহিদা বাড়িয়ে দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির বৃদ্ধির সম্ভাবনা সমর্থন করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল বিষয় হবে কীভাবে শ্যাডোফ্যাক্স তার ক্লায়েন্ট বেস বৈচিত্র্য করবে এবং সেবা মান উন্নত করবে, যাতে বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলা করা যায়।



