27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর মন্তব্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর মন্তব্য

ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের সম্ভাব্য হ্রাস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেছে, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ মৌলিক শুল্ক এবং অতিরিক্ত ২০ শতাংশ সুরক্ষা শুল্ক অন্তর্ভুক্ত।

দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পার্শ্বিক সেশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাবিনেট-স্তরের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই আলোচনাগুলি ত্বরান্বিত হয়েছে। দূত জানান, শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট সেক্টরে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শুল্ক হ্রাসের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে লুৎফে সিদ্দিকী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন যে, এই সপ্তাহের শেষের দিকে অথবা পরের সপ্তাহের শুরুর দিকে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি যুক্তি দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্ক বাধা কমানো এবং ব্যবসা সহজীকরণে জোর বাংলাদেশি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশি সংস্কার কর্মসূচি গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে, পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক (রেসিপ্রোকাল) নীতির দিকে বিশ্ব বাণিজ্যের ঝোঁক বাড়ার ফলে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

দূত লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বহু মন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর আল সৌদের সঙ্গে পর্যটন শিল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মিশর ও সৌদি আরবে পর্যটন খাতে রেকর্ড বৃদ্ধির পেছনে ‘টুরিস্ট এক্সপেরিয়েন্স’ তৈরির কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পর্যটন সেক্টরকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উচ্চ সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর জন্য এটি বড় সুযোগের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক হ্রাস এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন উভয়ই দেশের বাণিজ্যিক পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার দিকে সহায়তা করবে।

অতিরিক্তভাবে, লুৎফে সিদ্দিকী জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি তুলে ধরেন। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে সহজতর করার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনা, অতিরিক্ত সুবিধার সম্ভাবনা এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অগ্রগতি বাংলাদেশি রপ্তানি বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত প্রদান করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সূচি নির্ধারিত না হওয়ায় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, শুল্ক হ্রাস এবং অশুল্ক বাধা কমানোর উদ্যোগগুলি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments