মিশা সওদাগর ২৭ জানুয়ারি উত্তরা এলাকায় একটি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মিডিয়ার সঙ্গে তিনি ব্র্যান্ডের প্রচার ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। একই সঙ্গে তিনি ক্রিকেট সংক্রান্ত মতামতও প্রকাশ করেন, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই ব্র্যান্ডের প্রথম স্বাক্ষরিত লাইফস্টাইল লাইন হিসেবে মিশা সওদাগরের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগে তার আগ্রহের মূল কারণ হল ব্র্যান্ডের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। তার মতে, এমন একটি প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়া তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ব্র্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিকের প্রস্তাবও করা হয়েছিল, তবে মিশা সওদাগর উচ্চ পরিমাণের অফার সত্ত্বেও তা গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন। তিনি বলেন, অর্থের চেয়ে ব্র্যান্ডের নীতি ও মূল্যবোধ তার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তিনি সীমিত শর্তে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
ব্র্যান্ডের উদ্বোধনের পর আলোচনার বিষয়বস্তু দ্রুতই ক্রিকেটের দিকে ঘুরে যায়। মিশা সওদাগর স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শাকিবের প্রত্যাবর্তন দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ।
শাকিবের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি জানান, রাজনৈতিক বিষয়ের কারণে তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। মিশা সওদাগর বলেন, শাকিবকে আরও আগেই দলে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল, তবে রাজনৈতিক জটিলতা তার প্রত্যাবর্তনকে বিলম্বিত করেছে।
ক্রীড়া ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে মিশা সওদাগর স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতিকে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে ফেললে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হলে ক্রীড়া ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নষ্ট হয়।
মিশা সওদাগর আরও জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় দলে কেবল মেধাবী খেলোয়াড়দেরই সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেটের মাঠে পারফরম্যান্সই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত, রাজনৈতিক সংযোগ নয়।
“ক্রিকেট আর রাজনীতিকে এক করা যায় না” – এই মন্তব্যে তিনি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের স্বতন্ত্রতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার কথায় স্পষ্ট যে, ক্রীড়া ক্ষেত্রের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই।
ব্র্যান্ডের সততা ও ক্রিকেটের ন্যায়পরায়ণতা—দুই ক্ষেত্রেই মিশা সওদাগরের দৃষ্টিভঙ্গি একরূপ। তিনি বলেন, একটি ব্র্যান্ডের সাফল্য তার নৈতিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে, তেমনি একটি জাতীয় দলের সাফল্যও তার খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর নির্ভর করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য শিল্প ব্যক্তিত্ব ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা মিশা সওদাগরের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানায়। তারা উল্লেখ করেন, তার মতামত ক্রীড়া ও সংস্কৃতির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক। একই সঙ্গে ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মিশা সওদাগর শেষ করে বলেন, তিনি ভবিষ্যতে এমন আরও প্রকল্পে অংশ নিতে ইচ্ছুক যেখানে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রধান মানদণ্ড। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের ফলে শাকিবের পুনরায় দলে যোগদান দেশের ক্রিকেটে নতুন উত্সাহ যোগাবে। এই মন্তব্যগুলো তার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।



