23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইউক্রেনের যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, ১২ জন নিহত

ইউক্রেনের যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, ১২ জন নিহত

মঙ্গলবার রাতে, উত্তর‑পূর্ব খারকিভ অঞ্চলের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন রাশিয়ার ড্রোনের আক্রমণে প্রায় ২০০ যাত্রী বহনকারী একটি বগিতে আঘাত পায়। এই হামলায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। ট্রেনটি যখন গতি বজায় রাখছিল, তখন ড্রোনটি নিকটবর্তী উচ্চতা থেকে বোমা নিক্ষেপ করে, ফলে বগির কাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

আক্রমণের পরপরই ইউক্রেনের সরকার জানায় যে, এই ঘটনার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষ অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পড়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সেবা পাঠিয়ে আহতদের চিকিৎসা করেছে এবং ট্রেনের বাকি যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেছিলেন, ট্রেনের বগিতে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার কোনো সামরিক যুক্তি নেই এবং এমন কাজ শান্তি প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় এই ধরনের আক্রমণ একটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা দাবি করা হচ্ছে।

এই হামলা ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কিয়েভ‑মস্কো আলোচনার সূচনা হয়েছে, যা প্রায় চার বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি লক্ষ্য করে। তবে রাশিয়া এখনও সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই ধরনের আক্রমণ কূটনৈতিক চাপে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি কৌশল হতে পারে।

ইউক্রেনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি আক্রমণ ঘটেছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গ্যাস পাইপলাইন এবং রেলওয়ে নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারাবাহিকতা রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্যকে প্রকাশ করে: বেসামরিক জনসংখ্যার দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে যুদ্ধের চাপ বাড়ানো। ট্রেনের মতো জনপরিবহনের লক্ষ্যবস্তু হওয়া, যুদ্ধের মানবিক দিককে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া দ্রুত প্রকাশ পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান প্রতিনিধিরা রাশিয়ার এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন এবং তৎক্ষণাৎ শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রাশিয়াকে জরুরি মানবিক বিরতি দিতে এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু আক্রমণ বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে, কিয়েভ‑মস্কো আলোচনার ফলাফল এবং রাশিয়ার সামরিক চালনা উভয়ই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি রাশিয়া বেসামরিক আক্রমণ চালিয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক শাস্তি ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়তে পারে, যা সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানকে আরও জটিল করে তুলবে। তবে ইউক্রেনের সরকার এবং তার মিত্র দেশগুলো একমত যে, মানবিক ক্ষতি কমাতে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে রাশিয়ার কার্যক্রমের উপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments