মুম্বাই থেকে পুনে জেলার বারামতি শহরে গন্তব্যে উড়ে যাওয়া একটি ছোট বিমান বুধবার সকাল ৮টায় মেঘে ছুঁয়ে উড়ে গেল, তবে ৪৫ মিনিট পর ৯টার কাছাকাছি বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। এতে মহারাষ্ট্রের উপমূখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান অজিত পাওয়ার, তার দেহরক্ষী এবং ক্রু সহ মোট ছয়জনের প্রাণ নেওয়া যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা কর্মীরা তৎক্ষণাৎ আগুন নিভাতে চেষ্টা করে, তবে ধ্বংসের মাত্রা বড় হওয়ায় বেঁচে থাকা কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিমানটি মুম্বাই থেকে বারামতি বিমানবন্দরের দিকে প্রস্থান করে এবং প্রায় ৪৫ মিনিটের উড়ানের পর নামার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বিমানটি অবতরণে প্রস্তুত হওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে ধসে পড়ে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে দ্রুতই অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অজিত পাওয়ারসহ ক্রু সদস্য, দেহরক্ষী এবং বিমান চালকেরা সকলেই মৃত্যুবরণ করেছে। বাকি দুজন যাত্রীকে জরুরি সেবা দল স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেছে, তবে তাদের অবস্থার সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। মোট ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর একজনের দেহ এখনও ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া যায়নি।
অজিত পাওয়ার পুনে জেলার বারামতি শহরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচারমূলক সভা করতে গিয়েছিলেন। তিনি চারটি জনসভায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছিলেন, যেখানে তিনি এনসিপি-র নির্বাচনী কৌশল ও নীতি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। এই সফরটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল, কারণ বারামতি অঞ্চলে এনসিপি-র ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য ছিল।
দুর্ঘটনা ঘটার পর এনসিপি শাখা দ্রুত একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে অজিত পাওয়ার এবং অন্যান্য নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পার্টি উল্লেখ করেছে যে, ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত নির্ণয় করা হবে।
বিপক্ষের দলগুলোও এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে, তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, এই ধাক্কা এনসিপি-র নির্বাচনী প্রভাবকে কমিয়ে দিতে পারে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
মুম্বাই বিমানবন্দর ও বারামতি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, পাইলটের অভিজ্ঞতা এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়া, বিমানটি যে এয়ারলাইন পরিচালনা করছিল তার ওপরও তদন্তের দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, অজিত পাওয়ারর মৃত্যু এনসিপি-র নির্বাচনী কৌশলে বড় ধাক্কা হতে পারে, কারণ তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং নির্বাচনী প্রচারের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন। তার অনুপস্থিতি পার্টির সংগঠনগত কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করতে পারে এবং নতুন নেতৃত্বের সন্ধান বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অবশেষে, এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে এবং রাজনৈতিক পরিসরে অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ফলাফল এবং পার্টির পুনর্গঠন পরিকল্পনা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



